Search

Shopping cart

Saved articles

You have not yet added any article to your bookmarks!

Browse articles
Newsletter image

Subscribe to the Newsletter

Join 10k+ people to get notified about new posts, news and tips.

Do not worry we don't spam!

GDPR Compliance

We use cookies to ensure you get the best experience on our website. By continuing to use our site, you accept our use of cookies, Privacy Policy, and Terms of Service.

লালমোহনে খাটের নিচে মিলল ১ হাজার ১৭০ কেজি সরকারি চাল

ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি বসতঘরের খাটের নিচে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা জেলেদের খাদ্য সহায়তার ১ হাজার ১৭০ কেজি সরকারি চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালানো বাড়িটি স্থানীয় মুদিদোকানি জসিম সর্দারের। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযানের আগেই তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে কিশোরগঞ্জ এলাকায় জসিম সর্দারের ঘরে যৌথ অভিযান চালায় লালমোহন উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। এ সময় ঘরের একটি খাটের নিচে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ কেজি ওজনের ২৪টি বস্তা এবং ৫০ কেজি ওজনের ৯টি বস্তাভর্তি চাল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ৩৯টি বস্তায় মোট চালের পরিমাণ ১ হাজার ১৭০ কেজি। পরে এসব চাল জব্দ করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, উদ্ধার করা চালগুলো জেলেদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সরকারি খাদ্য সহায়তার অংশ। এগুলো অবৈধভাবে মজুদ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইউএনও আরও জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত এই চাল বিক্রি বা ব্যক্তিগতভাবে বিপুল পরিমাণে মজুদ করার কোনো সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির কাছে এত পরিমাণ সরকারি চাল থাকার কথা নয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এমএইচএস / বাংলা সংযোগ 

বর্ষার বন্দনা ও আর্তের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াস: চারুকলায় ‘ঘনঘটা ২’

ইট-পাথরের নগরে বর্ষা মানেই যেন কর্দমাক্ত পথ, জলাবদ্ধতা আর অন্তহীন যানজটের ভোগান্তি। তবে নাগরিক জীবনের এই একঘেয়েমি ও যন্ত্রণার আড়ালে বর্ষার যে এক চিরন্তন সাংস্কৃতিক ও নান্দনিক রূপ রয়েছে, তাকেই নাচ আর সুরের আবহে তুলে ধরা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান ‘ঘনঘটা ২’। তবে এই আয়োজন কেবল বর্ষা বন্দনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা। একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার অর্থি আহমেদের উদ্যোগে এবং চারুকলা অনুষদের সার্বিক সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতির চর্চাকে সমাজের বিপন্ন মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করাই ছিল এই আয়োজনের মূল সুর। আয়োজন প্রসঙ্গে অর্থি আহমেদ জানান, প্রায় চার মাস আগে থেকেই তাঁরা এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পার্বত্য এলাকায় যে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা আয়োজকদের ভাবিয়ে তোলে। তাঁরা মনে করেছেন, এমন বড় দুর্যোগকে উপেক্ষা করে শুধু উৎসব করা যায় না। শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই তাঁরা বর্ষা উদযাপনের পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের এই উদ্যোগ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ‘অর্থি আহমেদ ড্যান্স একাডেমি’র সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে বন্যার্তদের জন্য অনুদান দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আসা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য ভেন্যুতেই দুটি বিশেষ বুথ স্থাপন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘জাগো ফাউন্ডেশন’। এই বুথগুলোর মাধ্যমে সংগৃহীত সব অর্থ পার্বত্য চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকায় সাহায্যার্থে পাঠানো হবে। তহবিলের পরিমাণ নিয়ে অর্থি আহমেদ বলেন, "হয়তো আমাদের সংগৃহীত তহবিলের পরিমাণ খুব বেশি হবে না। কিন্তু সংকটের এই সময়ে শিল্পীরা তো হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেন না। আমরা কতটুকু সাহায্য করতে পারব, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন; তবে এই সংকটে উদাসীন থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।" প্রায় ৯০ মিনিটের এই বিশেষ আয়োজনে পরিবেশিত হয় মোট ১৬টি ভিন্ন ঘরানার নৃত্য। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলার লোকজ ঐতিহ্যের গান ও সুরের ওপর ভিত্তি করে এই নৃত্যগুলো সাজানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের বৈচিত্র্য। তিন বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে সত্তর বছর বয়সী প্রবীণ—সব মিলিয়ে তিন শতাধিক শিল্পী এই পরিবেশনায় অংশ নেন। তাঁদের অনেকেই প্রথমবারের মতো মঞ্চে পারফর্ম করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শুধু পেশাদার নৃত্যশিল্পীই ছিলেন না, বরং ছিলেন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক ও গৃহিণীসহ নানা পেশার সাধারণ মানুষ, যাঁদের একক সুতোয় বেঁধেছিল নাচের প্রতি ভালোবাসা। উদ্যোক্তাদের মতে, নাগরিক জীবনে বর্ষা এখন কেবলই ভোগান্তির প্রতীক হয়ে উঠছে। অথচ বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বর্ষা চিরকালই উৎসব ও উদযাপনের অংশ। সেই হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক চেতনাকে পুনরায় মানুষের সামনে নিয়ে আসতেই এই ‘ঘনঘটা ২’-এর আয়োজন। উল্লেখ্য, একুশে পদক পাওয়ার পর এটিই অর্থি আহমেদের একাডেমির প্রথম বড় মাপের আয়োজন। গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম ‘ঘনঘটা’ অনুষ্ঠানের সাফল্যের ধারাবাহিকতা এবং দর্শক-শ্রোতাদের ইতিবাচক সাড়াই এবার আরও বড় পরিসরে এই উৎসব আয়োজনে মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই উন্মুক্ত নৃত্যানুষ্ঠানে বৃষ্টির আবহ ও নাচের মুদ্রায় মেতেছিলেন উপস্থিত দর্শকেরা, আর সেই আনন্দধারা মিশে গিয়েছিল আর্তের প্রতি সহমর্মিতার এক মানবিক সুরে।

Ad

সংযোগ স্পটলাইট

বৈদেশিক বাণিজ্যে দ্বিমুখী চিত্র : কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি কমছে, ভরসা কেবল প্রবাসী আয়

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে একধরনের বিপরীতমুখী চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রপ্তানিও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান বেড়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশে। তবে এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স), যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকিয়ে তা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস, ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, বড় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি। শিল্পের ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে, কমছে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দেখা গেছে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ২৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি ও নতুন বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান সূচক মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানি ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে ভোগ্যপণ্য ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে আমদানি দায় পরিশোধ বা ইমপোর্ট সেটেলমেন্ট হয়েছে ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। তবে নতুন আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে আমদানির গতি ফেরার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমদানি কমার কারণ হিসেবে ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী যেমন—বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও গাজী গ্রুপসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ কিংবা সীমিত সক্ষমতায় চলছে। কোনো কোনো কারখানা তাদের সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহার করছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিও লক্ষ্যমাত্রার নিচে আমদানি হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রপ্তানি খাতেও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। অথচ এ বছর সরকারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৮০ শতাংশ) আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের প্রভাব, জ্বালানি সংকট ও লজিস্টিকস ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি বাড়েনি। যদিও গত জুন মাসে রপ্তানিতে ২৬ শতাংশের বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত ছুটির দিন কম ও কর্মদিবস বেশি থাকার একটি সাময়িক প্রভাব মাত্র। বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি, রক্ষা করল রেমিট্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট আমদানি হয়েছে ৬৪ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। বৈদেশিক বাণিজ্যের এই নাজুক পরিস্থিতিতে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী আয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের কারণেই বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে এবং চলতি حسابের ঘাটতি অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে আর্থিক হিসাবে ৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। যার সুবাদে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ২০২৬ সালের জুনের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে, যা এক বছর আগে ছিল ২৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এফটিজেড: ব্যবসার নতুন দুয়ার বাণিজ্যের এমন পরিস্থিতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড)। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে, যার আওতায় ব্যবসায়ীরা এলসি ছাড়াই সরাসরি চালানের ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানি করতে পারবেন এবং শুল্কমুক্তভাবে তা সংরক্ষণ ও পুনঃরপ্তানি করতে পারবেন। এই উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, "শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া মানে ভবিষ্যৎ রপ্তানি সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়া। কারণ আজকের বিনিয়োগের অভাব আগামী কয়েক মাস পর উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।" ফ্রি ট্রেড জোনের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, "এটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর সুফল পেতে হলে কাস্টমস সেবা দ্রুত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ববাজারে ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো দেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ যেহেতু এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে, তাই বন্দর ও লজিস্টিকসের দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।" দরকার সমন্বিত সংস্কার অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কেবল সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স বাড়ার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, "সামনে বৈশ্বিক সংঘাত ও এলডিসি উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হবে। ব্যবসার খরচ কমানো, লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো কার্যকর করাসহ দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।" বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প খাতের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই কেবল বৈদেশিক বাণিজ্যের এই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

Channel survey

What measures do you think will solve the problem of water shortage in USA?