আজ ৫ আগস্ট, ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মুখে দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছিল এই দিনে। বিপ্লবীদের কাছে ‘৩৬ জুলাই’ নামে পরিচিত গৌরবময় এ বিজয়ের আজ দুই বছর পূর্ণ হলো। শত শত ছাত্র, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষের আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত এই দিনটি আজ দেশজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন এবং শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনাসহ রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দিনভর নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
ঐতিহাসিক এ দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। এই বিজয় বীর ছাত্র-জনতার। তিনি আরও বলেন, এত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই বিপ্লবের তুলনা করে বলেন,

‘১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদদের মতো ২০২৪ সালের শহীদদের অবদানও জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।’

জুলাইয়ের চেতনা রক্ষার তাগিদ
জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন নেতার পক্ষ থেকেও নানা বক্তব্য এসেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জুলাই আন্দোলনের বীরদের ওপর বিচ্ছিন্ন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘চারদিকে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী।’

দিনভর যত কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করবেন।

বেলা ১১টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এছাড়া দেশের ৬৪টি জেলাতেই আজ একযোগে অনুরূপ সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সংস্কৃতি অঙ্গনের উদ্যোগে আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘মুনসুন কালচারাল অ্যালায়েন্স’–এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক এক বিশেষ কনসার্ট। এতে অংশ নেবেন দেশের জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্যান্ড দল ও সংগীতশিল্পীরা। এছাড়া ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ দেশের সকল সিটি করপোরেশন এলাকায় জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ সুবিধা
দিবসটি উপলক্ষে আজ দেশের সরকারি ও বেসরকারি জাদুঘরসমূহ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। একই সাথে সব শিশু পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে শিশুরা বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, কারাগার ও শিশু পরিবারগুলোতে আজ উন্নতমানের প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, সমাবেশ ও র‍্যালির আয়োজন করেছে। দেশের সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।