Shopping cart
Your cart empty!
Terms of use dolor sit amet consectetur, adipisicing elit. Recusandae provident ullam aperiam quo ad non corrupti sit vel quam repellat ipsa quod sed, repellendus adipisci, ducimus ea modi odio assumenda.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Do you agree to our terms? Sign up
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২৩ ০৮:৫৮:০০
দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগিরই তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সরকার ও ক্ষমতাসীন বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতিকে সরে দাঁড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই বার্তার পাশাপাশি তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন, তা নিয়েও দলের নীতিনির্ধারণী মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বঙ্গভবনের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ইতিমধ্যে তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বঙ্গভবন ছাড়ার ব্যাপারে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন। সূত্রটির ভাষ্যমতে, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তিনি কিছুদিন একান্তে বিশ্রামে থাকবেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁর বিদেশে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
আলোচনায় সম্ভাব্য উত্তরসূরিরা
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন নামের অন্বেষণ শুরু হয়েছে। এর আগে এই শীর্ষ পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং ড. আব্দুল মঈন খানসহ বেশ কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার নাম আলোচনায় ছিল। তবে বর্তমানে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত একজন সচিবের নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বস্ততার কারণে তাঁর নাম বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
অবশ্য এই আলোচনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বিষয়ের সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত নই বা এ বিষয়ে অবগত নই। তবে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে একাধিক নাম আলোচনায় আসাটা স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।’
পদত্যাগ ও শূন্য পদ পূরণে সংবিধানে যা রয়েছে
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্বহস্তে লিখিত ও স্বাক্ষরযুক্ত পত্র স্পিকারের উদ্দেশে পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ খালি হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত।
পটভূমি ও নানা বিতর্ক
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিলে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পটভূমি সম্পূর্ণ বদলে যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের পদে বহাল ছিলেন। সে সময় ছাত্রনেতারা তাঁর অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করলেও তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার কোনো চরম সিদ্ধান্ত নেয়নি। পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে পুনরায় সামনে আসে।
এছাড়া, অতীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তাঁর ভূমিকা এবং পরবর্তীতে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের মালিকানাধীন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকা নিয়ে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে নানা সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যদি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন, তবে তা হবে গণ-অভ্যুত্থান ও নতুন সংসদ গঠনের পর দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর একটি বড় পরিবর্তন। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে একধরনের বিপরীতমুখী চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রপ্তানিও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান বেড়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশে। তবে এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স), যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকিয়ে তা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস, ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, বড় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি। শিল্পের ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে, কমছে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দেখা গেছে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ২৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি ও নতুন বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান সূচক মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানি ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে ভোগ্যপণ্য ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে আমদানি দায় পরিশোধ বা ইমপোর্ট সেটেলমেন্ট হয়েছে ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। তবে নতুন আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে আমদানির গতি ফেরার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমদানি কমার কারণ হিসেবে ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী যেমন—বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও গাজী গ্রুপসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ কিংবা সীমিত সক্ষমতায় চলছে। কোনো কোনো কারখানা তাদের সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহার করছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিও লক্ষ্যমাত্রার নিচে আমদানি হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রপ্তানি খাতেও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। অথচ এ বছর সরকারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৮০ শতাংশ) আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের প্রভাব, জ্বালানি সংকট ও লজিস্টিকস ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি বাড়েনি। যদিও গত জুন মাসে রপ্তানিতে ২৬ শতাংশের বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত ছুটির দিন কম ও কর্মদিবস বেশি থাকার একটি সাময়িক প্রভাব মাত্র। বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি, রক্ষা করল রেমিট্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট আমদানি হয়েছে ৬৪ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। বৈদেশিক বাণিজ্যের এই নাজুক পরিস্থিতিতে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী আয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের কারণেই বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে এবং চলতি حسابের ঘাটতি অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে আর্থিক হিসাবে ৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। যার সুবাদে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ২০২৬ সালের জুনের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে, যা এক বছর আগে ছিল ২৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এফটিজেড: ব্যবসার নতুন দুয়ার বাণিজ্যের এমন পরিস্থিতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড)। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে, যার আওতায় ব্যবসায়ীরা এলসি ছাড়াই সরাসরি চালানের ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানি করতে পারবেন এবং শুল্কমুক্তভাবে তা সংরক্ষণ ও পুনঃরপ্তানি করতে পারবেন। এই উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, "শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া মানে ভবিষ্যৎ রপ্তানি সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়া। কারণ আজকের বিনিয়োগের অভাব আগামী কয়েক মাস পর উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।" ফ্রি ট্রেড জোনের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, "এটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর সুফল পেতে হলে কাস্টমস সেবা দ্রুত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ববাজারে ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো দেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ যেহেতু এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে, তাই বন্দর ও লজিস্টিকসের দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।" দরকার সমন্বিত সংস্কার অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কেবল সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স বাড়ার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, "সামনে বৈশ্বিক সংঘাত ও এলডিসি উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হবে। ব্যবসার খরচ কমানো, লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো কার্যকর করাসহ দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।" বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প খাতের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই কেবল বৈদেশিক বাণিজ্যের এই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।