রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালের আলুবাজার এলাকায় একটি সেলুনে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে ‘আরমান সেলুন’ নামের একটি দোকানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন, সেলুনের কর্মী শমশেদ (৩০), রাজু (৩৪), পাপ্পু (২৬), আরমান (৩৭) এবং গ্রাহক মো. ফারুক (৩৫), রিংকু (৩০), রনি (৩৬), জসিম (৪০), রফিক (২৫) ও সাকিব (১৭)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল দিবাগত রাতে আলুবাজারের ওই সেলুনে কর্মী ও গ্রাহকেরা ব্যস্ত ছিলেন। রাত একটার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে সেলুনের এসিটি বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে থাকা কর্মীরা ও গ্রাহকেরা দগ্ধ হন। আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধ ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ফারুকের শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া রিংকুর ২১ শতাংশ, রাজুর ১৮ শতাংশ, পাপ্পুর ১৮ শতাংশ, শমশেদের ১৫ শতাংশ, আরমানের ১৫ শতাংশ, রফিকের ১২ শতাংশ, রনির ১০ শতাংশ এবং জসিমের ৮ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সাকিব নামের একজনের দগ্ধের পরিমাণ খুবই কম (১ শতাংশ) থাকায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি নয়জনের শ্বাসনালিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আজ বুধবার সকালে দগ্ধ ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এসি বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।

এলটি / বাংলা সংযোগ