Shopping cart
Your cart empty!
Terms of use dolor sit amet consectetur, adipisicing elit. Recusandae provident ullam aperiam quo ad non corrupti sit vel quam repellat ipsa quod sed, repellendus adipisci, ducimus ea modi odio assumenda.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Do you agree to our terms? Sign up
ওয়াসিম খান রানা
প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১৯ ১৩:০১:০০
বুড়িগঙ্গার জল সেদিন অদ্ভুত রকম শান্ত ছিল।
পুরান ঢাকার সেই পুরনো ঘাটে, যেখানে বিকেলের আলো পানিতে পড়লে মনে হয় কেউ যেন গলিত সোনা ঢেলে দিয়েছে , সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল রানা নামে এক টকবকে যুবক। হাতে একটা ভাঁজ করা চিঠি। কিন্তু পাঠাবে না। পাঠানোর আর কোনো মানে নেই।
তিন বছর।
তিন বছর ধরে সে মেহেরকে ভালোবেসেছে। না, "ভালোবাসা" শব্দটা হয়তো যথেষ্ট না। সে মেহেরকে নিয়ে বেঁচে থেকেছে। প্রতিটা সকাল মেহেরের কথা ভেবে শুরু হতো, প্রতিটা রাত তার কণ্ঠস্বর মনে করে শেষ হতো। ঢাকার এই অলিগলি, মিটফোর্ড রোডের ব্যস্ততা, লালবাগের কেল্লার নীরবতা, বাহাদুর শাহ পার্কের পুরনো গাছগুলো - সবকিছুর সাথে মেহেরের স্মৃতি মিশে আছে।
প্রথম দিন দেখেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে, টিএসসির সামনে।
মেহের তখন রিকশা থেকে নামছে, হাতে বইয়ের স্তূপ, মাথায় অক্টোবরের রোদ। দুপুরের ঢাকায় সেই মুহূর্তটা আরিয়ানের মনে আজও ছবির মতো আটকে আছে । সাদা কুর্তির নিচে নীল সালোয়ার, কানে ছোট্ট রুপার দুল, আর ঠোঁটের কোণে একটা একচিলতে হাসি যেটা সে নিজের জন্য হাসছিল, কারো জন্য না।
রানা প্রথমবার ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়েছিল সেদিন।
পরিচয় হলো এক সপ্তাহ পরে, কমন রুমে। বইয়ের বিনিময়ে। মেহের হুমায়ূন আহমেদ পড়ত, রানা রবীন্দ্রনাথ। দুজনের ভেতর বিতর্ক শুরু হলো - হুমায়ূনের গল্পে মানুষ বেশি, না রবীন্দ্রনাথের কবিতায়? সেই বিতর্ক শেষ হয়নি কখনো। বরং সেই শেষ না-হওয়াটাই তাদের সম্পর্কের ভিত্তি হয়ে গেল।
তারপর - চা, বৃষ্টি, গল্প, চা, আবার বৃষ্টি।
ঢাকায় বৃষ্টি হলে কী সুন্দর যে লাগে! পুরান ঢাকার গলিতে জমা পানিতে পা ভিজিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মেহের বলত, "রানা, এই শহরটা না থাকলে আমি বাঁচতাম না।"
রানা মনে মনে বলত, তুমি না থাকলে আমিও না।
কিন্তু ভালোবাসার গল্পে শুধু বৃষ্টি থাকে না।
শীত আসে। শীতের পর গ্রীষ্ম। আর গ্রীষ্মের রোদে অনেক সত্য বেরিয়ে পড়ে যেগুলো বৃষ্টির মেঘে লুকিয়ে ছিল।
মেহেরের বাবা ছিলেন রক্ষণশীল মানুষ। নোয়াখালীর মানুষ, পুরনো মূল্যবোধে বিশ্বাসী। মেয়ের বিয়ে হবে তাঁর পছন্দমতো ছেলের সাথে। রানা ঢাকার ছেলে, ভিন্ন জেলার, বাবা নেই , এই পরিচয়গুলো কোনো ছাড়পত্র পাওয়ার মত না।
মেহের একদিন ফোনে বলেছিল, "রানা, তুমি যদি একটু... আমি জানি না।"
"কী?"
"কিছু না।"
সেই "কিছু না"-র ভেতর রানা অনেক কিছু শুনতে পেয়েছিল।
তারপর থেকে দুজনের ভেতর একটা অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি হতে শুরু করল। কথা হতো, কিন্তু সেই কথায় আগের উষ্ণতা ছিল না। দেখা হতো, কিন্তু চোখে আর সেই অকারণ আনন্দ থাকত না।
মেহের কেমন যেন বদলে গেল। না, বদলায়নি আসলে সে ভয় পেতে শিখে গেল।
শেষ দিনটা ছিল ফেব্রুয়ারিতে। একুশে ফেব্রুয়ারি।
প্রভাতফেরিতে ভোরবেলা দুজনে একসাথে গিয়েছিল শহীদ মিনারে। খালি পায়ে। হাতে হলুদ-লাল ফুল। চারদিকে মানুষের ভিড়, "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" গানের সুর ভেসে বেড়াচ্ছে। এই দিনে ঢাকা অন্যরকম হয়ে যায় । শহরটা যেন নিজেই একটা কাব্য হয়ে ওঠে।
মেহের ফুল রাখার পর রানার দিকে তাকাল।
সেই চাহনিতে রানা সব বুঝে গেল।
"মেহের—"
"রানা, আমাকে কিছু বলতে দাও।"
"আমি জানি তুমি কী বলবে।"
"তাহলে তুমিই বলো।"
রানা অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। চারপাশে মানুষ, গান, ফুলের গন্ধ। আর ভেতরে ভেতরে একটা পৃথিবী ভেঙে পড়ছে।
"তোমার বাবা রাজি না।"
"না।"
"তুমি চাইলে লড়াই করতে পারতে।"
মেহেরের চোখ ভিজে এলো। "রানা, তুমি কি জানো, প্রতিদিন রাতে আমি বালিশে মুখ গুঁজে ভাবি। নিজেকে বোঝাই। কিন্তু বাবার মুখের দিকে তাকালে... আমি পারি না।"
"তুমি তাকে ভালোবাসো।"
"হ্যাঁ।"
"আমাকেও।"
"হ্যাঁ।" কণ্ঠ ভেঙে গেল। "কিন্তু এই দুটো ভালোবাসা এক জায়গায় থাকতে পারছে না।"
রানা বুঝল, মেহের মিথ্যে বলছে না। সে পালিয়ে যাচ্ছে না। সে আসলে একটা অসম্ভব জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে যেদিকেই যাক, কাউকে না কাউকে হারাতে হবে।
সেদিন রানা মেহেরের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "ঠিক আছে।"
মাত্র দুটো শব্দ। কিন্তু সেই দুটো শব্দ বলতে গিয়ে তার মনে হলো সমুদ্রের তলায় ডুব দিয়ে বলছে।
মেহের চলে গেল।
ভিড়ের মধ্যে সে মিলিয়ে গেল — সাদা শাড়িতে, হাতে বেলি ফুল, চোখে জল চাপা দিয়ে। আরিয়ান দাঁড়িয়ে রইল শহীদ মিনারের সামনে। একা।
চারপাশে ভাষার উৎসব। আর সে ভুলে গেছে ভাষা।
সেদিনের পর থেকে রানার ঢাকা বদলে গেছে।
টিএসসির চা-দোকানে এখন একা বসে। সেই কমন রুমের সামনে দিয়ে হাঁটার সময় পা দ্রুত করে ফেলে। মিটফোর্ডের গলিতে কোনো সাদা কুর্তি দেখলে বুক ধড়াস করে ওঠে । তারপর দেখে, না, সে মেহের না।
কিন্তু সবচেয়ে কঠিন লাগে বৃষ্টিতে।
ঢাকায় বৃষ্টি হলে রানা এখন জানালা বন্ধ করে দেয়। কারণ বৃষ্টির শব্দে মেহেরের হাসি শোনা যায়।
বুড়িগঙ্গার ঘাটে সন্ধ্যা নামছে।
রানা হাতের চিঠিটার দিকে তাকাল। সে এই চিঠি লিখেছিল তিন রাত জেগে। সব কথা আছে , অভিমান, ভালোবাসা, রাগ, ক্ষমা। কিন্তু পাঠাবে না।
কারণ মেহেরকে সে সত্যিই ভালোবেসেছিল। আর সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয় না।
সে চিঠিটা ধীরে ধীরে ভাঁজ করল। আরও ভাঁজ করল। তারপর আস্তে করে বুড়িগঙ্গার জলে ছেড়ে দিল।
কাগজটা একটু ভাসল। তারপর ধীরে ধীরে ডুবে গেল।
রানা অনেকক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিল।
বুড়িগঙ্গার বাতাসে পচা জলের গন্ধ, নৌকার কাঠের গন্ধ, আর দূরে কোথাও ভাপা পিঠার গন্ধ মিলিয়ে এক অদ্ভুত সুবাস।
এই শহর। এই তার শহর। মেহের চলে গেছে, কিন্তু ঢাকা যায়নি।
কয়েক মাস পরে, একদিন হঠাৎ ফোন।
অপরিচিত নম্বর। ধরতে গিয়ে হাত থামল। তারপর ধরল।
"রানা।"
মেহেরের গলা।
আরিয়ান কিছু বলতে পারল না।
"কেমন আছো?"
"ভালো।" মিথ্যে।
"আমি... আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।" কণ্ঠ কাঁপছে। "জানাতে চাইলাম।"
"ধন্যবাদ জানানোর জন্য।" সত্যি কথা।
"রানা, আমি—"
"মেহের।" রানা থামাল। "তুমি ভালো থেকো। সত্যি বলছি।"
লম্বা নীরবতা।
"তোমাকে ভুলতে পারব না।" মেহের ফিসফিস করে বলল।
"আমিও না।" রানা বলল। "কিন্তু ভুলতে না পারলেও বেঁচে থাকা যায়। এটা আমি শিখে গেছি।"
ফোন কেটে গেল।
রানা ছাদে উঠল।
পুরান ঢাকার ছাদ থেকে রাতের শহর দেখা যায় । লালবাগের মিনার, বুড়িগঙ্গার কালো জলে আলোর প্রতিফলন, দূরে চকবাজারের হইচই, ওপরে অসংখ্য তারা।
এই শহরে কতো গল্প আছে। কতো ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে, কতো মরে গেছে। কতো মানুষ এই ছাদে দাঁড়িয়ে কেঁদেছে, কতো মানুষ হেসেছে।
রানা ভাবল, ভালোবাসা শেষ হয়ে গেলে মানুষ কি ভেঙে পড়ে? হয়তো। কিন্তু ভেঙে পড়াটাই শেষ না। ভেঙে যাওয়ার পরেও ভোর হয়। ঢাকায় ভোর হয়। বুড়িগঙ্গায় সকালের আলো পড়ে। রিকশার ঘণ্টি বাজে। চায়ের দোকান খোলে।
জীবন থামে না।
অনেক দিন পরের কথা।
রানা একদিন টিএসসির সামনে দাঁড়িয়ে। হাতে বই। পাশ থেকে কেউ বলল, "এক্সকিউজ মি, এই বইটা কি হুমায়ূন আহমেদের?"
ঘুরে তাকাল।
একটা মেয়ে। হাতে রবীন্দ্রনাথের কবিতার বই।
রানা একটু হাসল। "হ্যাঁ। আর আপনার হাতেরটা?"
"রবীন্দ্রনাথ।"
"হুমায়ূন ভালো, না রবীন্দ্রনাথ?"
মেয়েটা একটু অবাক হলো। তারপর হাসল। "বিতর্কের ব্যাপার।"
"বিতর্ক করব?"
সে হাসল। "চা খেতে খেতে।"
রানা আকাশের দিকে একবার তাকাল।
মেহেরের কথা মনে পড়ল- সেই বৃষ্টি, সেই বুড়িগঙ্গার ঘাট, সেই চিঠি যেটা ডুবে গেছে।
কিন্তু সেই মনে পড়াটা এখন আর ক্ষত না। এটা একটা দাগ - যেটা থাকবে, কিন্তু আর রক্ত ঝরাবে না।
"চলুন।" সে বলল।
বুড়িগঙ্গা বয়েই চলে।
কতো কান্না গেছে এই জলে, কতো ভালোবাসা গেছে । নদী মনে রাখে না। সে শুধু বয়। যেদিকে মোহনা, সেদিকে।
মানুষও তাই।
বিচ্ছেদ একটা অধ্যায়। আর জীবন, জীবন একটা পুরো বই। একটা অধ্যায় শেষ হলে পরের পাতা উল্টাতে হয়।
শেষ

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে একধরনের বিপরীতমুখী চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রপ্তানিও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান বেড়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশে। তবে এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স), যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকিয়ে তা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস, ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, বড় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি। শিল্পের ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে, কমছে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দেখা গেছে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ২৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি ও নতুন বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান সূচক মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানি ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে ভোগ্যপণ্য ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে আমদানি দায় পরিশোধ বা ইমপোর্ট সেটেলমেন্ট হয়েছে ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। তবে নতুন আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে আমদানির গতি ফেরার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমদানি কমার কারণ হিসেবে ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী যেমন—বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও গাজী গ্রুপসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ কিংবা সীমিত সক্ষমতায় চলছে। কোনো কোনো কারখানা তাদের সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহার করছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিও লক্ষ্যমাত্রার নিচে আমদানি হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রপ্তানি খাতেও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। অথচ এ বছর সরকারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৮০ শতাংশ) আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের প্রভাব, জ্বালানি সংকট ও লজিস্টিকস ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি বাড়েনি। যদিও গত জুন মাসে রপ্তানিতে ২৬ শতাংশের বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত ছুটির দিন কম ও কর্মদিবস বেশি থাকার একটি সাময়িক প্রভাব মাত্র। বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি, রক্ষা করল রেমিট্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট আমদানি হয়েছে ৬৪ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। বৈদেশিক বাণিজ্যের এই নাজুক পরিস্থিতিতে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী আয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের কারণেই বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে এবং চলতি حسابের ঘাটতি অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে আর্থিক হিসাবে ৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। যার সুবাদে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ২০২৬ সালের জুনের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে, যা এক বছর আগে ছিল ২৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এফটিজেড: ব্যবসার নতুন দুয়ার বাণিজ্যের এমন পরিস্থিতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড)। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে, যার আওতায় ব্যবসায়ীরা এলসি ছাড়াই সরাসরি চালানের ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানি করতে পারবেন এবং শুল্কমুক্তভাবে তা সংরক্ষণ ও পুনঃরপ্তানি করতে পারবেন। এই উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, "শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া মানে ভবিষ্যৎ রপ্তানি সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়া। কারণ আজকের বিনিয়োগের অভাব আগামী কয়েক মাস পর উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।" ফ্রি ট্রেড জোনের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, "এটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর সুফল পেতে হলে কাস্টমস সেবা দ্রুত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ববাজারে ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো দেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ যেহেতু এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে, তাই বন্দর ও লজিস্টিকসের দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।" দরকার সমন্বিত সংস্কার অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কেবল সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স বাড়ার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, "সামনে বৈশ্বিক সংঘাত ও এলডিসি উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হবে। ব্যবসার খরচ কমানো, লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো কার্যকর করাসহ দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।" বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প খাতের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই কেবল বৈদেশিক বাণিজ্যের এই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।