Shopping cart
Your cart empty!
Terms of use dolor sit amet consectetur, adipisicing elit. Recusandae provident ullam aperiam quo ad non corrupti sit vel quam repellat ipsa quod sed, repellendus adipisci, ducimus ea modi odio assumenda.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Do you agree to our terms? Sign up
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৩ ১০:০৬:০০
শুনতে অবাক লাগলেও পৃথিবীর এমন কয়েকটি দেশ রয়েছে, যেখান থেকে চাঁদ পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় কিছুটা কাছাকাছি বলে মনে হয়। কিন্তু এটি কোনো অপটিক্যাল ইলিউশন নয়; আসলেই এমন ভৌগোলিক কারণ রয়েছে যার জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
প্রথমেই যে দেশটির নাম আসে সেই দেশটির নাম ইকুয়েডর। এখানে রয়েছে চিম্বোরাজো পর্বত, এটি হলো সেই স্থান, যেখান থেকে চাঁদকে সবচেয়ে কাছাকাছি দেখা যায়। পৃথিবী আসলে পুরোপুরি গোল নয়; এটি কিছুটা চ্যাপ্টা, বা "ওবলেট স্ফেরয়েড" আকৃতির, যার কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলের স্থানগুলো পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করে। আর এ কারনেই চিম্বোরাজো পর্বতের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬২৬৩ মিটার হলেও এটি পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬৩৮৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা মাউন্ট এভারেস্টের চেয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার বেশি। এই কারণে, ইকুয়েডরের চিম্বোরাজো পর্বত থেকে চাঁদ পৃথিবীর যেকোনো স্থানের তুলনায় কিছুটা কাছাকাছি মনে হয়।
তবে, চিম্বোরাজো একমাত্র স্থান নয় যেখানে চাঁদকে অনেক কাছাকাছি মনে হয়। এছাড়া, নেপালের মাউন্ট এভারেস্ট এবং পেরুর হুয়াসকারান পর্বতেও এই একই ধরনের ঘটনা ঘটে। যদিও ভূ-কেন্দ্র থেকে মাউন্ট এভারেস্ট চিম্বোরাজোর চেয়ে কিছুটা কম দূরে, তবে এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত হওয়ায় এর চূড়া থেকে চাঁদকে বিশাল ও অসাধারণ সুন্দর দেখতে পাওয়া যায়। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় ৮৮৪৮ মিটার, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর যে কোনো স্থান থেকে বেশি উঁচু। অপর দিকে পেরুর হুয়াসকারান আন্ডিস পর্বতমালার অন্যতম উঁচু পর্বত, যার উচ্চতা প্রায় ৬৭৬৮ মিটার। এই পর্বতটি পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চলের একটু বাইরে অবস্থান করলেও এর উচ্চতা এবং ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এখান থেকেও চাঁদকে কিছুটা বড় দেখায়।
কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন আসে—চাঁদকে এত কাছাকাছি দেখতে পাওয়ার পরেও, কেন এই স্থানগুলো মহাকাশ অভিযানের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে পরিণত হয়নি? বিশেষ করে যখন ইলন মাস্কের মতো উদ্যোক্তারা চাঁদ ও মঙ্গলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তখন কেন তারা এই দেশগুলোকে বিবেচনা করছেন না?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের মহাকাশ অভিযানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক বুঝতে হবে। চাঁদে পৌঁছানোর জন্য উৎক্ষেপণের জন্য কয়েকটি বিশেষ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যা এই দেশগুলো মেটাতে পারে না। আসুন দেখে নিই সেই কারণগুলো কী কী ?
লঞ্চ প্যাডের অবকাঠামো ও স্থিতিশীলতাঃ রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামো, বড় ও স্থিতিশীল স্থান প্রয়োজন। ইকুয়েডরের চিম্বোরাজো, নেপালের এভারেস্ট, এবং পেরুর হুয়াসকারান—এই পর্বতগুলো উচ্চতার দিক থেকে চাঁদের কাছাকাছি মনে হলেও এগুলো যথেষ্ট স্থিতিশীল নয়। এছাড়া উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে গেলে এসব অঞ্চলে রকেট উৎক্ষেপণের জন্য প্রয়োজনীয় বড় ও শক্তিশালী লঞ্চ প্যাড তৈরি করতে হবে, যা পর্বতের খাড়া ঢালে প্রায় অসম্ভব। এ কারণেই, নাসা এবং স্পেসএক্সের মতো সংস্থা নিরাপদ ও স্থিতিশীল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ব্যবহার করে, যেমন ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল বা কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম।
অক্সিজেন ও উচ্চতা সম্পর্কিত সমস্যাগুলোঃ উচ্চতা যত বেশি হবে, বাতাসে অক্সিজেনের ঘনত্ব তত কমে যাবে। উচ্চ উচ্চতায় বায়ুর ঘনত্ব কম থাকায় সেখানে অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রযুক্তি পরিচালনা করা কঠিন। চিম্বোরাজো, এভারেস্ট, এবং হুয়াসকারানের মতো উচ্চ শৃঙ্গগুলোতে অক্সিজেনের অভাবে মানবশরীরের পাশাপাশি প্রযুক্তিরও কর্মক্ষমতা অনেক কমে যায়। একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনা করতে প্রচুর পরিমাণ শক্তি ও জ্বালানি প্রয়োজন, যা এই উচ্চ উচ্চতায় কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। তাই, সমতল ভূমিতে উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করাই সবচেয়ে উপযুক্ত।
খরচ ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাঃ ইলন মাস্কের স্পেসএক্স বা নাসার মতো সংস্থাগুলো রকেট উৎক্ষেপণ ও মহাকাশ মিশনের জন্য তাদের নির্দিষ্ট বাজেট এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা নিয়ে কাজ করে। এমন কোনো পর্বতের শৃঙ্গে উৎক্ষেপণ কেন্দ্র স্থাপন করতে গেলে, এটি অতিরিক্ত অর্থ এবং সম্পদের প্রয়োজন হবে। চিম্বোরাজো, এভারেস্ট বা হুয়াসকারান যেহেতু দুর্গম ও ব্যয়বহুল স্থান, তাই এই ধরনের পর্বতকে মহাকাশ মিশনের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করা খুবই ব্যয়বহুল এবং অনেকক্ষেত্রে অবাস্তব।
আবহাওয়া ও ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতাঃ এই উচ্চ পর্বতগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তন খুব দ্রুত হয়, যা উৎক্ষেপণের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। বিশেষ করে চিম্বোরাজো এবং এভারেস্টে তীব্র বাতাস, তুষারঝড় এবং নিম্ন তাপমাত্রার কারণে সেখানে উৎক্ষেপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। স্পেস মিশনের সময় এই ধরনের পরিবেশ থাকলে তা মিশনের সাফল্যকে বিপদে ফেলতে পারে।
এক গভেষনায় জানা গেছে, ইলন মাস্ক তার উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে সমুদ্রপৃষ্ঠে রাখতে চান তার কারণ হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উৎক্ষেপণ করলে মহাকর্ষের টান কমাতে রকেটকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয় না। এছাড়া, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উৎক্ষেপণ করলে রকেটের গতি অর্জন করা এবং সঠিক কক্ষপথে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ। মহাকাশে যেতে হলে রকেটকে সুনির্দিষ্ট "এসকেপ ভেলোসিটি" বা পালানোর গতি অর্জন করতে হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি থেকে উৎক্ষেপণ করলে, এই গতি অর্জনের জন্য কম শক্তি প্রয়োজন হয় এবং এটি তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণেই ইলন মাস্ক তার রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি রাখতে পছন্দ করেন।
বর্তমানে চাঁদ বা মঙ্গলে যাওয়ার জন্য ইলন মাস্কের স্পেসএক্স বা নাসার মতো সংস্থাগুলো এই উচ্চতায় অবস্থিত দেশগুলোতে উৎক্ষেপণ কেন্দ্র স্থাপনের কথা ভাবছে না। তবে ভবিষ্যতে যদি মহাকাশ ভ্রমণের প্রযুক্তি আরও উন্নত হয় এবং উচ্চ উচ্চতায় রকেট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয়, তখন ইকুয়েডর, নেপাল বা পেরু এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। অবশ্যই তখনও এই অঞ্চলে অবকাঠামো এবং খরচের চ্যালেঞ্জগুলো থাকবে, তবে ভবিষ্যতের উন্নত প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মাধ্যমে হয়তো তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।
ওকেআর / বাংলা সংযোগ

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে একধরনের বিপরীতমুখী চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রপ্তানিও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান বেড়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশে। তবে এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স), যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকিয়ে তা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস, ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, বড় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি। শিল্পের ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে, কমছে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দেখা গেছে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ২৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি ও নতুন বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান সূচক মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানি ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে ভোগ্যপণ্য ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে আমদানি দায় পরিশোধ বা ইমপোর্ট সেটেলমেন্ট হয়েছে ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। তবে নতুন আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে আমদানির গতি ফেরার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমদানি কমার কারণ হিসেবে ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী যেমন—বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও গাজী গ্রুপসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ কিংবা সীমিত সক্ষমতায় চলছে। কোনো কোনো কারখানা তাদের সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহার করছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিও লক্ষ্যমাত্রার নিচে আমদানি হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রপ্তানি খাতেও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। অথচ এ বছর সরকারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৮০ শতাংশ) আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের প্রভাব, জ্বালানি সংকট ও লজিস্টিকস ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি বাড়েনি। যদিও গত জুন মাসে রপ্তানিতে ২৬ শতাংশের বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত ছুটির দিন কম ও কর্মদিবস বেশি থাকার একটি সাময়িক প্রভাব মাত্র। বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি, রক্ষা করল রেমিট্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট আমদানি হয়েছে ৬৪ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। বৈদেশিক বাণিজ্যের এই নাজুক পরিস্থিতিতে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী আয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের কারণেই বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে এবং চলতি حسابের ঘাটতি অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে আর্থিক হিসাবে ৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। যার সুবাদে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ২০২৬ সালের জুনের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে, যা এক বছর আগে ছিল ২৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এফটিজেড: ব্যবসার নতুন দুয়ার বাণিজ্যের এমন পরিস্থিতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড)। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে, যার আওতায় ব্যবসায়ীরা এলসি ছাড়াই সরাসরি চালানের ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানি করতে পারবেন এবং শুল্কমুক্তভাবে তা সংরক্ষণ ও পুনঃরপ্তানি করতে পারবেন। এই উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, "শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া মানে ভবিষ্যৎ রপ্তানি সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়া। কারণ আজকের বিনিয়োগের অভাব আগামী কয়েক মাস পর উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।" ফ্রি ট্রেড জোনের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, "এটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর সুফল পেতে হলে কাস্টমস সেবা দ্রুত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ববাজারে ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো দেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ যেহেতু এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে, তাই বন্দর ও লজিস্টিকসের দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।" দরকার সমন্বিত সংস্কার অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কেবল সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স বাড়ার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, "সামনে বৈশ্বিক সংঘাত ও এলডিসি উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হবে। ব্যবসার খরচ কমানো, লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো কার্যকর করাসহ দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।" বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প খাতের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই কেবল বৈদেশিক বাণিজ্যের এই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।