Shopping cart
Your cart empty!
Terms of use dolor sit amet consectetur, adipisicing elit. Recusandae provident ullam aperiam quo ad non corrupti sit vel quam repellat ipsa quod sed, repellendus adipisci, ducimus ea modi odio assumenda.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Sit amet consectetur adipisicing elit. Sequi, cum esse possimus officiis amet ea voluptatibus libero! Dolorum assumenda esse, deserunt ipsum ad iusto! Praesentium error nobis tenetur at, quis nostrum facere excepturi architecto totam.
Lorem ipsum dolor sit amet consectetur adipisicing elit. Inventore, soluta alias eaque modi ipsum sint iusto fugiat vero velit rerum.
Do you agree to our terms? Sign up
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৩ ১০:৩০:০০
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের শক্তিশালী দালিলিক প্রমাণ। এর মাধ্যমে নাগরিকেরা সরকারের কাজ এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মুক্তভাবে আলোচনা করতে পারে এবং তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করে। তবে বাস্তবতায় অনেক দেশেই গণমাধ্যম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়, যা সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো সমাজে গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একটি স্বাধীন গণমাধ্যম সরকারের কর্মকাণ্ডে জনগণের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। যখন গণমাধ্যম স্বাধীন থাকে, তারা স্বাধীনভাবে সরকারের নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ, সামাজিক সমস্যা, দুর্নীতি, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোর মতো উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন, সেখানে দুর্নীতির হার কম এবং জনসাধারণের কাছে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছতা রয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু রাজনৈতিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে নয় বরং সামাজিক ইস্যু সম্পর্কেও জনগণকে সচেতন রাখতে সাহায্য করে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলেও, নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপ, আইনি বাধা, এবং কখনও কখনও সহিংসতার মাধ্যমে সাংবাদিকদের প্রতিবেদন থেকে বিরত রাখা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গণমাধ্যমের উপর নির্ভরশীলতা সরকারের কর্মকাণ্ডকে জনসাধারণের নজরে রাখে এবং দেশের নীতি-নির্ধারকদের জবাবদিহিতা বাড়ায়।
অন্যদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তির মৌলিক অধিকার, যা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন। একটি স্বাধীন সমাজে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে পারে, যা সৃজনশীলতার প্রসার এবং সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। উদাহরণস্বরূপ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কারণে সাহিত্যে, চিত্রশিল্পে, চলচ্চিত্রে, এবং সঙ্গীতে সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজের সমস্যা ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরা সম্ভব হয়।
সামাজিক পরিবর্তনের জন্যও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নারী অধিকার, শিক্ষার অধিকার এবং পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এসব আন্দোলন তখনই সফল হয়েছে যখন জনগণের মত প্রকাশের অধিকার ছিল এবং তারা স্বাধীনভাবে তাদের দাবি তুলে ধরতে পেরেছিল।
যখন কোনো রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়, তখন সেটি দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মধ্যে ফেলে। রাষ্ট্র যখন কঠোর আইন, যেমন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা জাতীয় নিরাপত্তার নামে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে, তখন সেটি কার্যত জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকারকে হ্রাস করে। এ ধরনের আইনি কাঠামো বা নিয়মাবলী প্রায়ই "ভুয়া সংবাদ" বা "অবমাননা" নামক শিরোনামে স্বাধীন গণমাধ্যমের উপর চাপ প্রয়োগ করে, যা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। যা জনগণের সাথে সরকারের দূরত্ব বাড়ায় এবং তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে সরকারী কর্মকাণ্ডের উপর জনসাধারণের দৃষ্টি কমে যায় এবং সঠিক তথ্যের অভাবে তারা বিভ্রান্তিতে ভুগতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যখন দেশগুলোতে সরকার বা রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের কারণে কোনো সংবাদের উপর প্রতিবেদন দিতে বাধা দেয়া হয়, তখন সেটি সমাজে অনিয়ন্ত্রিত তথ্যের প্রবাহ সৃষ্টি করে এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ায়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে নিরপেক্ষ এবং অবাধ পরিবেশ তৈরিতে উদ্যোগী হতে হবে। সংবিধানের সুরক্ষার আওতায় স্বাধীন মতপ্রকাশের এবং তথ্য প্রকাশের অধিকারকে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সাংবাদিক এবং নাগরিকেরা ভীতি বা চাপের মধ্যে না থেকে নির্ভয়ে তথ্য তুলে ধরতে পারেন। যা একটি দেশের সংবিধান এবং আইন ব্যবস্থা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সংশোধনী (First Amendment) আইন সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণের জন্য এই স্বাধীনতার সুরক্ষা দেয়, যা তাদের মতামত প্রকাশে স্বাধীনভাবে কথা বলতে ও মতামত তুলে ধরতে সহায়ক।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যখন একটি দেশের জনগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে এবং দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে একটি ইতিবাচক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, তখনই একটি দেশ সত্যিকার অর্থে সার্বভৌম। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, যা একটি রাষ্ট্রকে জনগণের স্বার্থে কাজ করতে বাধ্য করে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। তাই একটি দেশ যদি তার গণমাধ্যম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করে, তবে এটি দেশের সার্বভৌমত্বকে আরও মজবুত করে এবং এটি জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে একটি সুস্থ সম্পর্ক তৈরি করে।
ওকেআর / বাংলা সংযোগ

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে একধরনের বিপরীতমুখী চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রপ্তানিও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারেনি। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান বেড়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশে। তবে এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স), যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকিয়ে তা বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইকোনমিক ইন্ডিকেটরস, ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার, বড় কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রত্যাশিত গতি ফেরেনি। শিল্পের ভিত্তি দুর্বল হচ্ছে, কমছে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দেখা গেছে শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ২৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি ও নতুন বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান সূচক মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানি ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে ভোগ্যপণ্য ও মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানিও প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে আমদানি দায় পরিশোধ বা ইমপোর্ট সেটেলমেন্ট হয়েছে ৭০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ বেশি। তবে নতুন আমদানি এলসি খোলার পরিমাণ ৭ শতাংশ বেড়ে ৭৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে আমদানির গতি ফেরার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমদানি কমার কারণ হিসেবে ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী যেমন—বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ ও গাজী গ্রুপসহ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ কিংবা সীমিত সক্ষমতায় চলছে। কোনো কোনো কারখানা তাদের সক্ষমতার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যবহার করছে। এর পাশাপাশি ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিও লক্ষ্যমাত্রার নিচে আমদানি হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রপ্তানি খাতেও। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। অথচ এ বছর সরকারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ (প্রায় ৮০ শতাংশ) আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিদায়ী অর্থবছরে এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। পোশাক রপ্তানিকারকেরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের প্রভাব, জ্বালানি সংকট ও লজিস্টিকস ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি বাড়েনি। যদিও গত জুন মাসে রপ্তানিতে ২৬ শতাংশের বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত ছুটির দিন কম ও কর্মদিবস বেশি থাকার একটি সাময়িক প্রভাব মাত্র। বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি, রক্ষা করল রেমিট্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট আমদানি হয়েছে ৬৪ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৪০ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। বৈদেশিক বাণিজ্যের এই নাজুক পরিস্থিতিতে বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী আয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের কারণেই বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে এবং চলতি حسابের ঘাটতি অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে আর্থিক হিসাবে ৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। যার সুবাদে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ২০২৬ সালের জুনের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে, যা এক বছর আগে ছিল ২৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এফটিজেড: ব্যবসার নতুন দুয়ার বাণিজ্যের এমন পরিস্থিতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড)। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে, যার আওতায় ব্যবসায়ীরা এলসি ছাড়াই সরাসরি চালানের ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানি করতে পারবেন এবং শুল্কমুক্তভাবে তা সংরক্ষণ ও পুনঃরপ্তানি করতে পারবেন। এই উদ্যোগের বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, "শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়া মানে ভবিষ্যৎ রপ্তানি সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়া। কারণ আজকের বিনিয়োগের অভাব আগামী কয়েক মাস পর উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে।" ফ্রি ট্রেড জোনের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, "এটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর সুফল পেতে হলে কাস্টমস সেবা দ্রুত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশ্ববাজারে ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো দেশগুলো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ যেহেতু এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে, তাই বন্দর ও লজিস্টিকসের দক্ষতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।" দরকার সমন্বিত সংস্কার অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কেবল সাময়িকভাবে রেমিট্যান্স বাড়ার ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, "সামনে বৈশ্বিক সংঘাত ও এলডিসি উত্তরণের ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হবে। ব্যবসার খরচ কমানো, লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো কার্যকর করাসহ দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।" বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প খাতের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই কেবল বৈদেশিক বাণিজ্যের এই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।