আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা ও সমন্বয় করেই প্রস্তুতি নিতে চায় ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে না, তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে শরিকদের মতামত ও আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, "স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না। ফলে প্রতিটি এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে শরিক দলগুলোর সঙ্গে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে আমরা অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাই।"

তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে রাষ্ট্র পরিচালনার নানা ব্যস্ততা ও প্রশাসনিক সংস্কারমূলক কাজের কারণে প্রধানমন্ত্রী শরিক দলগুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বসার পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি। তবে দেরিতে হলেও সোমবারের এই বৈঠক অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে।

মির্জা ফখরুল জানান, সরকার গঠনের পর অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন সংস্কার এবং জরুরি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শরিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আন্দোলনের সময় জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী যুগপৎ আন্দোলনের ‘৩১ দফা’ রূপরেখা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘জুলাই সনদ’ সরকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আরও নিয়মিত ও ঘন ঘন বৈঠক ও মতবিনিময়ের ধারা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

সোমবার রাতের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন সরকার গঠনের পর শরিকদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক এই দীর্ঘ বৈঠক জোটের ভেতরের বোঝাপড়াকে আরও সুসংহত করবে এবং আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।