আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) আয়োজিত এক বিশেষ শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী রুশাদ তানজীম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।

গত ২০ জুন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘ব্রাশস্ট্রোকস অব বিলংগিংস’ শীর্ষক শিল্পকর্ম ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে তাঁর ‘মর্নিং উইল কাম’ শিল্পকর্মটির জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। রুশাদ তানজীমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশ-এর অ্যাসোসিয়েট এক্সটার্নাল রিলেশনস অফিসার কেভিন লিন্ডব্লম ও ম্যাথিল্ড ওপেতি।

আয়োজকেরা জানান, ‘স্টোরিজ বিয়ন্ড বর্ডার্স’ থিমে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এই প্রতিযোগিতায় দেশের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২০টি শিল্পকর্ম জমা পড়েছিল। সেখান থেকে প্রথম পর্যায়ে ২০টি শিল্পকর্মকে সনদ প্রদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে এই ২০ জনের মধ্য থেকে সেরা তিনজনকে গ্র্যান্ড পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়, যেখানে রুশাদ তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নবীন শিল্পীরা ট্র্যাডিশনাল পেইন্টিং, ইলাস্ট্রেশন বা ডিজিটাল আর্ট এবং কোলাজ আর্টওয়ার্কের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত মানুষের ফেলে আসা স্মৃতি, জীবনসংগ্রাম, অনুভূতি ও আগামী দিনের আশার গল্প তুলে ধরেন।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে রুশাদ তানজীম বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতাটি আমাকে শরণার্থী, বিশেষ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনসংগ্রাম ও আশার গল্পগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে। আমার শিল্পকর্ম ‘মর্নিং উইল কাম’-এ আমি শুধু বাস্তুচ্যুত মানুষের কষ্ট বা অনিশ্চয়তার চিত্রই ফুটিয়ে তুলিনি; বরং সবচেয়ে কঠিন সময়েও আশা আঁকড়ে ধরে রাখার গল্প এঁকেছি। মানুষ কীভাবে অদম্য মনোবল নিয়ে এগিয়ে যায়, সেই অসাধারণ এক মানবিক শক্তিকে তুলে ধরতে চেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘“ব্রাশস্ট্রোকস অব বিলংগিংস” প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমার এই বার্তাটি বহু মানুষের কাছে পৌঁছেছে। একজন নবীন শিল্পী হিসেবে আমার কাছে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর আনন্দের কিছু হতে পারে না।’