যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রাক্কালে সাউথ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোরে দাঁড়িয়ে ইরান ও ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে নিজের সামরিক সাফল্যের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সমঝোতায়’ পৌঁছাতে মরিয়া এবং দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার জন্য ওয়াশিংটন তেহরানকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে মাউন্ট রাশমোর ন্যাশনাল মেমোরিয়ালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া দীর্ঘ ভাষণে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি, আমেরিকানদের ব্যতিক্রমধর্মী অবস্থান এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের ভেতরে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ ও ‘উগ্রপন্থীদের’ কঠোর সমালোচনা করেন।
ভাষণে ইরান ও ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে নিজের প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা একদিনেই ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি, আর ইরানকে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করেছি। তারা এখন সমঝোতা করতে মরিয়া; তারা ভীষণভাবে একটি চুক্তি করতে চায়।”
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প কিছুটা বিদ্রূপের সুরে বলেন, “আমরা তাদের জানাজার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি, কারণ আমরা ভালো মানুষ।”
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। খামেনির মৃত্যুর পর যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘ চার মাস তাঁর জানাজা ও শেষকৃত্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। অবশেষে গতকাল শুক্রবার থেকে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তাঁর মরদেহ কাঁচের কফিনে জনসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হয়েছে। শনিবার থেকে ইরানে আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, যা তাঁর জন্মভূমি মাশহাদ ও ইরাকের পবিত্র শহর কারবালা-নাজাফ ঘুরে আগামী ৯ জুলাই সমাহিত করার মাধ্যমে শেষ হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন তেহরানে খামেনির জানাজা উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে এবং সেখানে মার্কিনবিরোধী স্লোগান ও ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি সংবলিত ব্যানার দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদযাপনের অংশ হিসেবে সাউথ ডাকোটার এই মেমোরিয়ালে সমবেত হয়েছিলেন প্রায় পাঁচ হাজার আমন্ত্রিত দর্শক। তবে এমন উৎসবের মাঝেও খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতি বেশ উত্তপ্ত। ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার এখন বেশ নিচের দিকে।
ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটদেরও কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এক সময়ের ঠান্ডা লড়াইয়ের কমিউনিস্ট শত্রু আজ দেশের অভ্যন্তরে নতুন রূপ নিয়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং আমেরিকার মূল ঐতিহ্য ও পরিচয়কে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।
৪ জুলাই ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশ ও সামরিক মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। তবে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে ট্রাম্পের এই জয়োৎসব কতটা রাজনৈতিক সুবিধা দেবে, তা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে গভীর সংশয় রয়েছে।