যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং এই বাহিনীর শক্তির ওপর ভর করে ইরানে ওয়াশিংটন ‘বড় জয়’ পেতে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই অভিযানের ফল খুব শিগগিরই সবার সামনে প্রকাশ পাবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা দেশের সামরিক বাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখন এটি আমাদের ব্যবহার করতে হচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতাকে ভেনেজুয়েলা অভিযানের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় হামলার পর সেখানেও যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হয়েছে। তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে লাখ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। ইরানেও ঠিক একইভাবে বড় জয়ের পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


এদিকে গত এক সপ্তাহে ইরানে কয়েক শ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী মূলত ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে নতুন করে কঠোর নৌ-অবরোধও আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।


যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা ও অবরোধের মুখে ইরানও বসে নেই। তারা কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম আল-বুদাইউই ইরানের এই পাল্টা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি তেহরানের এই পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছেন।


পাল্টাপাল্টি এই হামলার জেরে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে ওই অঞ্চল দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানিবাহী ট্যাংকার চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মেহদি ইয়াজদি এই পরিস্থিতির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালি হাতছাড়া হলে ইরান তাদের আঞ্চলিক ক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আলোচনার নিয়ন্ত্রণ হারাবে।” তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সহায়তায় আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘বাব-এল-মান্দেব প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়ার কড়া ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে তেহরান।


আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পর যদি বাব-এল-মান্দেব প্রণালিও বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় ডেকে আনবে। পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং ইরানের অনড় মনোভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে।