ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে ‘টোল’ বা মাসুল বসানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সুরক্ষায় দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের যে বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে, তা উশুল করতেই এমন কঠোর পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছেন তিনি।শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয়, তবে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে টোল বসানো হবে। এই টোলের অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তহবিলে জমা হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ বা অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলের দেশগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে আসছে। এই সুরক্ষার পেছনে ওয়াশিংটনের যে বিপুল ব্যয় হয়েছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে সেই অর্থ আদায় করা হবে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ প্রতিদিন ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথ বা হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের টোল বসানোর হুমকি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা মূলত ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। এর আগেও ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি গ্রহণ করেছিলেন। এখন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সরাসরি বৈশ্বিক বাণিজ্য রুটে কর বা টোল আরোপের কথা বলে তিনি তাঁর অনমনীয় অবস্থানের জানান দিলেন। তবে একটি আন্তর্জাতিক জলপথে এককভাবে কোনো দেশের টোল আদায়ের আইনি বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এলটি/ বাংলা সংযোগ