দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ ও অগ্নি নিরাপত্তা উন্নয়নে বিশেষ ঋণের শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহায়তাপুষ্ট ‘আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্ট’ (ইউবিএসপি)–এর অধীনে এখন থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত খেলাপি ঋণ থাকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এ ঋণের অর্থ বিতরণ করতে পারবে। আগে এই সীমা ছিল সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের (পিএফআই) খেলাপি ঋণের হারের সীমা দ্বিগুণ করা হলেও অন্য সব শর্ত ২০১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরের মূল প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বহাল থাকবে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলা এবং চট্টগ্রাম শহরের পোশাক কারখানাগুলোর ভবন নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে এ তহবিল থেকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রকল্পের বেসরকারি অংশের মোট তহবিল ৪২৪ কোটি জাপানি ইয়েন। এর মধ্যে ৪১২ কোটি ৯০ লাখ জাপানি ইয়েন ‘টু-স্টেপ লোন’ (টিএসএল) হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জাইকা বাংলাদেশ সরকারকে স্বল্প সুদে এই ঋণ দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ অর্থ অংশীদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পোশাক কারখানার মালিকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, পোশাক কারখানার ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রেট্রোফিটিং বা কাঠামো শক্তিশালীকরণ, পুনর্নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা স্থানান্তরের কাজে এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে। একজন উদ্যোক্তা বা কারখানা মালিক এ তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ কোটি টাকা পর্যন্ত উপ-ঋণ (সাব-লোন) নিতে পারবেন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কমিটির (পিএমসি) অনুমোদন নিয়ে এর চেয়ে বেশি অর্থও ঋণ হিসেবে নেওয়া সম্ভব।

গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মাত্র ২ শতাংশ সুদে এই তহবিল পাবে। রেট্রোফিটিং ও অগ্নি নিরাপত্তা খাতের জন্য ঋণের মেয়াদ হবে ১০ বছর এবং কারখানা পুনর্নির্মাণ ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এ মেয়াদ ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারবে। উভয় ক্ষেত্রেই দুই থেকে তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড বা রেয়াতকাল সুবিধা রাখা হয়েছে।

এ তহবিল থেকে ঋণ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট পোশাক কারখানাকে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ অথবা বিজিএপিএমইএর সদস্য হতে হবে। এছাড়া অংশীদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও পর্যাপ্ত মূলধন বজায় রাখা এবং সন্তোষজনক ক্যামেলস (CAMELS) রেটিং থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, খেলাপি ঋণের শর্ত শিথিল করার ফলে এখন আরও বেশিসংখ্যক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের আওতায় ঋণ দিতে পারবে। এর ফলে তৈরি পোশাক খাতের কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড সহজে পূরণ করতে পারবে এবং শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।