বিজ্ঞাপন
মফস্বল

সন্তানদের বিরিয়ানির সঙ্গে বিষ খাইয়ে মারলেন বাবা

বাংলা সংযোগ ডেস্ক

Published :
সন্তানদের বিরিয়ানির সঙ্গে বিষ খাইয়ে মারলেন বাবা

ছবি : সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মাদক ও জুয়ায় আসক্ত এক বাবা নিজের তিন অবুঝ সন্তানকে খাবারের সঙ্গে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তিনি নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আজ শনিবার ভোররাতে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত তিন শিশু হলো, মাওয়া (১০), তামিম (৭) ও শামীম (২)। তাদের বাবা শরাফত আলীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ, চিকিৎসক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরাফত আলীর স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। প্রবাস থেকে তিনি স্বামীর কাছে নিয়মিত সংসারের খরচের টাকা পাঠাতেন। কিন্তু শরাফত চরম মাত্রায় মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। স্ত্রীর পাঠানো টাকা তিনি এসব অপকর্মে উড়িয়ে দিতেন।

প্রতিবেশীরা জানান, গতকাল শুক্রবার দিনের বেলায় তিন শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় বড়ছড়া বাজারে গিয়েছিলেন শরাফত মিয়া। রাতে বাড়ি ফেরার সময় তিনি সঙ্গে করে বিরিয়ানি নিয়ে যান। এলাকাবাসীর ধারণা, গভীর রাতে ওই বিরিয়ানির সঙ্গেই বিষ মিশিয়ে তা সন্তানদের খাইয়ে দেন তিনি এবং পরে নিজেও খান।

আজ শনিবার ভোরে বিষয়টি টের পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা মুমূর্ষু অবস্থায় বাবা ও তিন সন্তানকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁদের নিকটস্থ বাদাঘাট বাজারের চিকিৎসক ডা. হাফিজ উদ্দিনের কাছে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফৌজিয়া বলেন, ‘সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে বাবা ও তিন সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাত একটা বা দেড়টার দিকে বিষপানের এ ঘটনা ঘটে। বিষক্রিয়ায় পিতা শরাফতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।’

খবর পেয়ে আজ সকালে তাহিরপুর থানা-পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, নিহত তিন শিশুর মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালটিতেই রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

কী কারণে ওই ব্যক্তি এমন নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুরো এলাকায় এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।