শ্বশুরবাড়ি থেকে ১৩ লাখ টাকার স্বর্ণ চুরি, গ্রেপ্তার ঘরজামাই
ছবি : সংগৃহীত
শ্বশুর-শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন। এই সুযোগে শ্বশুরবাড়ির লকার ভেঙে প্রায় ১৩ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরি করেন ‘ঘরজামাই’ সামিউল (৪০)। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার।
আজ সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জের ঘিওর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এসব তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তার সামিউল নওগাঁর নিয়ামাতপুর উপজেলার জোনাকী গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘিওরে মামলার বাদী ও ব্যবসায়ী আকবর আলী খানের বাড়িতে ‘ঘরজামাই’ হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের পাটাইকোনা এলাকার বাসিন্দা আকবর আলী খান ও তাঁর স্ত্রী গত ৩০ আগস্ট চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। পরে বাড়িতে ফিরে তাঁরা দেখতে পান, দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের দরজা, ট্রাংক ও লকারের তালা ভাঙা। সেখান থেকে আকবর আলীর স্ত্রীর ব্যবহৃত তিনটি চেইন, পাঁচ জোড়া কানের দুল, দুটি বালা, একটি সিতাহার, দুটি আংটি ও একটি ব্রেসলেটসহ চেক বই ও এটিএম কার্ড চুরি গেছে।
এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর আকবর আলী খান বাদী হয়ে ঘিওর থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার ও চোর ধরতে তদন্তে নামে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ঘিওর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জামাতা সামিউলকে গ্রেপ্তার করে।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মুহব্বত কবীর বলেন, মামলা দায়েরের পর পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে এই চুরির সঙ্গে বাদীর মেয়ের স্বামীই জড়িত। পরে রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।