মামলার গেরোয় আটকে সংস্কার, বড়পুকুরিয়ার খনি সড়কে পদে পদে ঝুঁকি
ছবি : বাংলা সংযোগ
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রতিদিন এই এলাকার প্রধান সড়ক দিয়ে চলাচল করে ভারী যানবাহনসহ অসংখ্য গাড়ি। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির এখন বেহাল দশা। পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ফটক থেকে রেলক্রসিং হয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও তিন রাস্তার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফুট এলাকার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এ ছাড়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকের আরও প্রায় ২০০ ফুট সড়কে খানাখন্দ। পিচ উঠে গিয়ে মাটি বেরিয়ে গেছে। বৃষ্টির দিনে বোঝার উপায় থাকে না গর্ত কতটা গভীর। রাতের বেলা এই সড়ক রীতিমতো মরণফাঁদে পরিণত হয়। রেলক্রসিং এলাকায় প্রায়ই বিকল হয়ে আটকে পড়ছে যানবাহন।
স্থানীয়রা জানান, এই পথ দিয়েই পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, মধ্যপাড়া, সৈয়দপুর, দিনাজপুর, রংপুর ও নীলফামারীসহ বিভিন্ন রুটের বাস, ট্রাক, পিকআপ ও ছোট যানবাহন চলাচল করে। পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী রুটের বাসচালক আশরাফুল হক বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো খুব কষ্টের। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে যায়, তখন গাড়ি গর্তে পড়ে যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। রাতের বেলায় ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।’
বড়পুকুরিয়া বাজারের মেসার্স জেমস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘রাস্তার যে অবস্থা, তাতে মোটরসাইকেল চালানোও কঠিন। ছেলেমেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনা–নেওয়ার সময় অভিভাবকদেরও চরম ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।’
এত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়া সত্ত্বেও কেন সংস্কার হচ্ছে না? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া বাজারের কাছে সড়কের একটি অংশের প্রায় আট শতক জমির মালিকানা নিয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তির আইনি লড়াই চলছে।
বড়পুকুরিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মো. জহির বলেন, মজিদপুর গ্রামের বাসিন্দা চিকিৎসক স্বপনের সঙ্গে সওজের এই মামলা এখন হাইকোর্টে চলছে। জমির মালিক জায়গাটি দিতে আগ্রহী হলেও সওজ সরকারি প্রক্রিয়ায় তা অধিগ্রহণ বা কিনে না নেওয়ায় সমস্যার সমাধান আটকে আছে।
দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী চালকেরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সড়কের ওই অংশের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। জমির মালিক সেখানে আমাদের কাজ করতে বাধা দিয়ে আসছেন। ওই জায়গায় সওজের প্রায় ছয় ফুট জায়গা রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়েছে।’
এই কর্মকর্তা আরও জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকলেও জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনো দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।