স্কুলে না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, অনুমতি ছাড়াই আমগাছ বিক্রি দপ্তরির
ছবি : সংগৃহীত
নিয়মিত স্কুলে আসেন না, তাঁর বদলে কাজ করেন তাঁর মা। স্কুলে না এসেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ের একটি আমগাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে মো. সুমন রানা নামের এক দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে।
নীলফামারী সদর উপজেলার পশ্চিম পঞ্চপুকুর জামতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন সুমন রানা। তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ এবং শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগকারী অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, সুমন রানা বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বিদ্যালয় চত্বরে একেবারেই অনুপস্থিত। তাঁর অনুপস্থিতিতে বাধ্য হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাই তাঁর কিছু কাজ করছেন। আবার কখনো কখনো তাঁর পরিবর্তে তাঁর মাকে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ করতে দেখা যায়। দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকলেও তিনি কীভাবে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁর কোনো অনুমোদিত ছুটি রয়েছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি তাঁদের।
এর পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে অসদাচরণ এবং গাছ থেকে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগও রয়েছে এই দপ্তরির বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের একটি আমগাছ মারা গেলে কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই সেটি কেটে বিক্রি করে দেন সুমন। গাছটির আনুমানিক মূল্য ছয় থেকে সাত হাজার টাকা।
বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘সুমন রানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বেশ গুরুতর। দায়িত্বে অবহেলা, বিদ্যালয়ের সম্পদ অপসারণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কায়কোবাদ বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দেওয়া অভিযোগের একটি অনুলিপি আমি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।’
তবে নীলফামারী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জশিজুল আলম মন্ডল জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো অভিযোগের কোনো অনুলিপি পাইনি। অনুলিপি হাতে পেলে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মো. সুমন রানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের দাবি, সুষ্ঠু তদন্ত শেষেই এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা বেরিয়ে আসবে।