স্ত্রীর করা মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত
প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয়টি গোপন রেখেই চালিয়ে যাচ্ছিলেন সংসার। এর মধ্যে ঢাকায় গিয়ে গোপনে সেরেছেন দ্বিতীয় বিয়েও। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রথম স্ত্রীর করা মামলায় বিদ্যুৎ সরকার নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। সাম্প্রতিক সরকারি নির্দেশনায় ছাত্রলীগ এখন একটি নিষিদ্ধ সংগঠন।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বালিয়ামারী বাজার এলাকা থেকে বিদ্যুৎ সরকারকে গ্রেপ্তার করে রাজীবপুর থানা-পুলিশ। গ্রেপ্তার বিদ্যুৎ সরকার রাজীবপুর সদর ইউনিয়নের জাউনিয়ার চর মিয়াপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে।
মামলার এজাহার ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাশের রৌমারী উপজেলার তরুণী সুমা আক্তারের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরকারের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বেশ কিছুদিন আগে প্রথম স্ত্রী সুমাকে তালাক দেন বিদ্যুৎ। তবে সেই তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে তিনি সুমার সঙ্গে আগের মতোই সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে তিনি ঢাকায় গিয়ে জুঁই নামের আরেক নারীকে বিয়ে করেন এবং সেখানেই বসবাস শুরু করেন।
সম্প্রতি প্রথম স্ত্রী সুমা আক্তার তাঁর তালাক ও স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় বিদ্যুৎ সরকারের বিরুদ্ধে রাজীবপুর থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবেই তাঁকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে মামলার বাদী সুমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে গ্রেপ্তার বিদ্যুৎ সরকারের পরিবারের দাবি, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই সুমা আক্তার এই মিথ্যা মামলা করেছেন।
রাজীবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন আলম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা স্ত্রীর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি বিদ্যুৎ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার তাঁকে কুড়িগ্রামের আদালতে পাঠানো হবে।