বিজ্ঞাপন
মফস্বল

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সর্বস্ব হারানো আছিয়ার দিন কাটে জরাজীর্ণ ঘরে

হাফিজ লিটন

প্রতিনিধি, ইসলামপুর (জামালপুর)
Published :
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে সর্বস্ব হারানো আছিয়ার দিন কাটে জরাজীর্ণ ঘরে

একসময় ছিল নিজের ঘর, ছিল সাজানো সংসার। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে সেই জীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। এখন জরাজীর্ণ ঘরে অভাব-অনটন আর অসুস্থতা নিয়ে দিন কাটছে জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভার উত্তর দরিয়াবাদ (ফকিরপাড়া) গ্রামের বিধবা আছিয়া বেগমের।

 

মৃত আনোয়ার ইসলামের স্ত্রী আছিয়া বেগমের জীবনে দুঃখ যেন পিছু ছাড়ছে না। নদীভাঙনে শেষ সম্বল হারানোর পর থেকেই তাঁকে লড়তে হচ্ছে দারিদ্র্যের সঙ্গে। এর মধ্যে শারীরিক অসুস্থতা তাঁর কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কোমরের হাড় ক্ষয়জনিত সমস্যায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। চোখে ছানি পড়ায় কমে গেছে দৃষ্টিশক্তিও। ফলে দৈনন্দিন কাজ করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

 

আছিয়া বেগমের দুই ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও পরিবারের আর্থিক সংকট কাটেনি। বসতভিটা হারানোর ক্ষত, চিকিৎসার অভাব আর অনিশ্চিত জীবন সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। জরাজীর্ণ ঘরে দিন কাটলেও নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নিশ্চয়তা এখনো তাঁর কাছে বড় চাওয়া।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে। এরপরও আছিয়া বেগমের মতো একজন অসহায় বিধবার জীবনযাত্রার এমন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তাঁর জন্য নিরাপদ বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

 

আছিয়া বেগমের চাওয়া খুব বেশি নয় একটি নিরাপদ ঘর, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা। জীবনের বাকি দিনগুলো যেন অন্তত কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারেন, সেই প্রত্যাশাই তাঁর।

 

তাঁর দুরবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবী সংগঠন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. জুবায়ের বলেন, নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নিয়ে তাঁর সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আছিয়া বেগমের জীবনে পরিবর্তন আনতে একটি নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসার সুযোগ ও আর্থিক সহায়তা হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন তাঁর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে এসে দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াবেন।