বিজ্ঞাপন
মফস্বল

জামিন পেয়ে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, কুষ্টিয়ায় আ.লীগ নেতার গুদামে আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট

Published :
জামিন পেয়ে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, কুষ্টিয়ায় আ.লীগ নেতার গুদামে আগুন

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় নাশকতার মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে আনন্দমিছিল থেকে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও তাঁর পাটের গুদামে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার ( ১৫ সেপ্টেম্বর )  রাত আটটার দিকে উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানাধীন পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের নলকোলা গ্রামে (১ নম্বর ওয়ার্ড) পাল্টাপাল্টি এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় নলকোলা গ্রামের ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে বসে নেতা-কর্মীরা মুড়ি-চানাচুর খাচ্ছিলেন। রাত আটটার দিকে পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রুহুলের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ওই কার্যালয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং সেখানে থাকা নেতা-কর্মীদের মারধর করেন। এতে বিএনপির ৫-৬ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি নাশকতার মামলা হয়। ওই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলসহ একাধিক ব্যক্তি আসামি ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার আদালত থেকে তাঁরা জামিন পান। জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে তাঁরা আনন্দমিছিল করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ওই মিছিল থেকেই সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁরা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালান।

এদিকে বিএনপি কার্যালয়ে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা পাল্টা হামলা চালান। তাঁরা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাড়িতে ভাঙচুর করেন এবং তাঁর পাটের গুদামে আগুন ধরিয়ে দেন।

খবর পেয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘খবর পেয়েই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় নতুন করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।