ঠোঁটের রং দেখেই জানা যাবে শরীরের গোপন রোগ!
ছবি : সংগৃহীত
সুন্দর ঠোঁট মুখের আকর্ষণ তো বাড়ায়ই, সেই সঙ্গে এটি আমাদের স্বাস্থ্যেরও এক বড় আয়না। আমরা সাধারণত লিপস্টিক বা লিপবাম দিয়ে ঠোঁটের সৌন্দর্য ধরে রাখতেই বেশি ব্যস্ত থাকি। কিন্তু কখনো কি খেয়াল করে দেখেছি, ঠোঁট তার রং পরিবর্তন করে শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার কথা জানান দিচ্ছে কি না?
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা নানা রোগের আগাম বার্তা দিতে পারে আমাদের এই ছোট্ট অঙ্গটি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ঠোঁটের রঙের দিকে একটু সতর্ক নজর দিলেই হয়তো অনেক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
চলুন জেনে নিই, ঠোঁটের কোন রং শরীরের কোন সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে—
ফ্যাকাশে বা সাদাটে ঠোঁট
ঠোঁট যদি তার স্বাভাবিক গোলাপি আভা হারিয়ে হঠাৎ ফ্যাকাশে বা সাদাটে হতে শুরু করে, তবে তা রক্তশূন্যতার স্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে। শরীরে আয়রনের অভাব হলে বা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে ঠোঁটের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলোতে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে পারে না। এ ছাড়া রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া বা ভিটামিন ‘বি-১২’–এর ঘাটতি থাকলেও ঠোঁট ফ্যাকাশে দেখাতে পারে।
নীলচে বা বেগনি ঠোঁট
শীতের তীব্রতায় অনেক সময় ঠোঁট নীল হয়ে যায়, যা স্বাভাবিক। কিন্তু সাধারণ আবহাওয়ায় ঠোঁটের রং নীলচে বা বেগনি হয়ে যাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে এমনটি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে হাঁপানি, নিউমোনিয়া বা সিওপিডির (COPD) মতো ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছেন, তাঁদের ঠোঁট নীলচে হতে পারে। এ ছাড়া জন্মগত হৃদ্রোগ বা হার্টের কোনো সমস্যার কারণেও ঠোঁটের রং এমন হতে পারে।
অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল ঠোঁট
লিপস্টিক ছাড়াই যদি আপনার ঠোঁট অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল রং ধারণ করে, তবে খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি হতে পারে লিভারের কোনো জটিলতার ইঙ্গিত। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রসাধনী বা লিপস্টিক থেকে অ্যালার্জির কারণেও ঠোঁটের কোষে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে ঠোঁট ফুলে লাল হয়ে যায় এবং জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়।
হলদেটে ঠোঁট
ত্বকের পাশাপাশি ঠোঁট বা এর চারপাশের অংশে হলদেটে ভাব ফুটে উঠলে তা জন্ডিসের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। লিভারে কোনো সংক্রমণ হলে, পিত্তথলিতে পাথর জমলে বা লিভারে ক্ষত তৈরি হলেও রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে ঠোঁটের রং হলুদ হয়ে যেতে পারে।
কালচে বা কালো ছোপযুক্ত ঠোঁট
আমাদের দেশে এটি একটি সাধারণ সমস্যা। নিয়মিত অতিরিক্ত ধূমপান, মাত্রাতিরিক্ত চা-কফি পানের অভ্যাস থাকলে ঠোঁটে মেলানিন জমে কালচে ছোপ পড়ে যায়। এ ছাড়া অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের লিপস্টিক ব্যবহারের কারণেও ঠোঁট কালো হয়ে যেতে পারে। তবে এর বাইরে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলেও ঠোঁটে কালচে দাগ হতে পারে।
ধূসর রঙের ঠোঁট
ঠোঁটের রং যদি বিবর্ণ বা ধূসর মনে হয়, তবে তা পরিপাকতন্ত্রের বা বিপাকক্রিয়াজনিত ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম বা ক্রনিক অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ঠোঁটের রং ধূসর হয়ে যেতে পারে।
সতর্কতা
মনে রাখতে হবে, কেবল ঠোঁটের রং দেখেই কোনো রোগ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা ঠিক নয়। এটি কেবল একটি প্রাথমিক সংকেত। তবে ঠোঁটের রঙের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় বা এর পাশাপাশি অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।