রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আর মাত্র এক মিনিটও বাকি নেই। ঠিক তখনই জাপানের ডি-বক্সের বাইরে ভুল করে বসলেন তানাকা। বল কেড়ে নিয়ে ব্রুনো গিমারায়েস থ্রু পাস বাড়ালেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির উদ্দেশ্যে। চোখের পলকে বলটি বাঁ পা থেকে ডান পায়ে নিয়ে দারুণ এক শটে জাপানি গোলরক্ষক জায়ন সুজুকিকে পরাস্ত করলেন মার্তিনেল্লি। বল পোস্ট স্পর্শ করে জড়িয়ে গেল জালে। ৯৬ মিনিটের এই নাটকীয় গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল।

ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য নিয়ন্ত্রক ছিল ব্রাজিলের পা। পানি পানের বিরতির (হাইড্রেশন ব্রেক) আগে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল সেলেসাওরা। একের পর এক আক্রমণে জাপানের রক্ষণভাগ তটস্থ রাখলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না। ৩ মিনিটেই প্রথম ভালো সুযোগ পায় ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারায়েসের শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে গোলপোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। ৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দিকে বাড়ানো বল জাপানি গোলরক্ষক সুজুকি পাঞ্চ করে ক্লিয়ার করেন, যদিও বলটি তিনি অনায়াসেই ধরে নিতে পারতেন।

আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ১০ মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করে ব্রাজিল। দানিলোর ক্রস থেকে ডি-বক্সের ভেতর শট নিতে গিয়ে এক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার বল মেরে বসেন সতীর্থের মুখেই! ১৪ মিনিটে কুনহার দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন সুজুকি। ফিরতি কর্নার থেকে পাকেতার শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। ১৬ মিনিটে উল্টো বিপদে পড়তে পারত ব্রাজিল। ডি-বক্সের বাইরে জুনিয়া ইতোকে ফাউল করে বসেন কাসেমিরো। তবে কামাদার ফ্রি-কিক রক্ষণ দেয়ালে বাধা পেয়ে বাইরে চলে যায়।

খেলার ধারার বিপরীতে ২৯ মিনিটে লিড নেয় জাপান। মাঝমাঠে দানিলোর দুর্বল পাস থেকে বল পেয়ে যান জাপানের সানো। কাসেমিরোকে গতিতে পরাস্ত করে বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের এক নিখুঁত কোণাকুণি শটে বল ব্রাজিলের জালে জড়ান তিনি। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। মারকিনহোসের হেড ও ভিনিসিয়ুসের দূরপাল্লার শট জাপানের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে রিতসু দোয়ান ও জুনিয়া ইতোর রসায়নে উল্টো ব্রাজিল রক্ষণে ভীতি ছড়ায় জাপান।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়াতে লুকাস পাকেতার পরিবর্তে তরুণ ফুটবলার এন্দ্রিককে মাঠে নামান ব্রাজিল কোচ। মাঠে নেমেই ছন্দে ফেরে ব্রাজিল। ৫০ মিনিটে এন্দ্রিকের বাড়ানো পাস ভিনিসিয়ুসের কাছে পৌঁছানোর আগেই সুজুকি লুফে নেন। ৫২ মিনিটে দানিলোর ক্রস থেকে গিমারায়েসের জোরালো হেড দুর্দান্ত ডাইভে প্রতিহত করেন সুজুকি। এরপর ৫৫ মিনিটে কাসেমিরোর হেড গোললাইনের ওপর থেকে ফিরিয়ে দেন তাকেহিরো তোমিয়াসু।

তবে গোল করার প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। এর ঠিক এক মিনিট পরেই (৫৬ মিনিটে) সেই কাসেমিরোই গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। সমতা ফেরানোর তিন মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি চমৎকার ড্রিবলিং জাপানি ডিফেন্ডার তোমিয়াসুকে পরাস্ত করলেও শটটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

৭৫ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করে সেলেসাওরা। এন্দ্রিকের পাস ধরে ভিনিসিয়ুস বক্সে ঢুকে পড়লেও তার ক্রসটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর কিছুক্ষণ পর গ্যাব্রিয়েলের ক্রস থেকে রায়ানের জোরালো হেড সুজুকির গায়ে লেগে কর্নার হয়।

ম্যাচ যখন ১-১ সমতায় ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই দৃশ্যপটে আসেন মার্তিনেল্লি। ৮৯ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের শট কর্নার হওয়ার পর জাপানের রক্ষণভাগ সাময়িক স্বস্তি পেলেও অতিরিক্ত ৬ মিনিটের একদম শেষ মিনিটে তানাকার ভুলের চড়া মূল্য চোকাতে হয় এশিয়ান পরাশক্তিদের। মার্তিনেল্লির সেই ৯৬ মিনিটের গোলে রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।

ওকেআর / বাংলা সংযোগ