বিশ্বকাপের পরিধি আরও বড় করার পক্ষে ইঙ্গিত দিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। তবে এখানেই থেমে থাকতে চায় না আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা)। আগামী ২০৩০ সালের শতবর্ষী বিশ্বকাপ থেকেই অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করার একটি প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফিফা প্রধান।


সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুউইন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা জানান ইনফ্যান্তিনো। তিনি উল্লেখ করেন, চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো এই প্রস্তাবটি নিয়ে বিশদ আলোচনা ও পর্যালোচনা করবে।


যদি ৬৪ দলের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়, তবে বর্তমান ৪৮ দলের তুলনায় আরও ১৬টি দেশ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। এতে ফিফার ২১০টি সদস্য দেশের পুরুষ জাতীয় দলের এক-চতুর্থাংশের বেশি দল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারবে।


চলমান ৪৮ দলের বিশ্বকাপকে অত্যন্ত সফল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইনফ্যান্তিনো। তাঁর মতে, দলের সংখ্যা বাড়ালে অপেক্ষাকৃত ছোট ফুটবল শক্তিগুলো বিশ্বকাপে খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাবে এবং ফুটবলে বিনিয়োগ ধরে রাখতে উৎসাহিত হবে।


ইনফ্যান্তিনো বলেন, ‘এটি অবশ্যই এমন একটি বিষয়, যা এই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো আলোচনা ও পর্যালোচনা করবে।’ বিশ্বকাপ কেবল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের হওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপ আয়োজনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পুরো বিশ্বের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। প্রতিটি দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে।’


৬৪ দলের বিশ্বকাপের ধারণাটি প্রথম সামনে আনেন উরুগুয়ের প্রতিনিধি ইগনাসিও আলোনসো। ২০২৫ সালের মার্চে ফিফা কাউন্সিলের এক সভায় তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল সংস্থা (কনমেবল)-এর সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেসও এই ধারণাকে সমর্থন করে বলেছেন, বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের আসরে ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট হওয়াটা হবে একটি ‘স্বপ্নের মতো’ ঘটনা।


২০৩০ সালের বিশ্বকাপটি তিনটি মহাদেশের ছয়টি দেশে যৌথভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী পর্বের একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ—উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। এরপর মূল আসর এবং অধিকাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে।


তবে যদি ৬৪ দলের ফরম্যাট চূড়ান্ত করা হয়, তবে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ শুধু একটি করে প্রতীকী ম্যাচ আয়োজন করেই সন্তুষ্ট নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা পূর্ণাঙ্গ গ্রুপ পর্বের ম্যাচ আয়োজনের দাবিও তুলতে পারে।


বিশ্বকাপের দল বাড়ানোর এই ধারণার বিপক্ষে ফুটবল বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী কর্মকর্তাই অবস্থান নিয়েছেন। ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (উয়েফা)-এর সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিন এই প্রস্তাবকে একটি ‘খারাপ ধারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত দল বাড়ালে বিশ্বকাপের ঐতিহ্যবাহী মান ও লড়াইয়ের তীব্রতা নষ্ট হবে এবং বাছাইপর্বের গুরুত্ব অনেকখানি কমে যাবে। উয়েফা সভাপতির এই অবস্থানের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানিও।


ফিফা শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে, তা হয়তো ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে ফিফার নীতিনির্ধারণী সভাগুলোতেই পরিষ্কার হবে। তবে ফুটবল বিশ্বের অপেক্ষাকৃত ছোট দেশগুলোর জন্য এই গুঞ্জন নিঃসন্দেহে নতুন স্বপ্নের জন্ম দিচ্ছে।

এলটি / বাংলা সংযোগ