বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরেছেন, টুর্নামেন্টসেরার গোল্ডেন বলও উঠেছে তাঁর হাতে। লিওনেল মেসির ট্রফি ঠাসা বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অপূর্ণতা বলতে প্রায় কিছুই নেই। তবে সূক্ষ্ম এক আক্ষেপ হয়তো রয়েই গেছে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ এখনো তাঁর শোকেসে জায়গা পায়নি।

আজ রাতে স্পেনের বিপক্ষে মেগা ফাইনালে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর শেষ সুযোগ পাচ্ছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে পথটা মোটেও সহজ নয়; বলা চলে ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন এক পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি। কারণ, তাঁর সেই স্বপ্নের মাঝে বড় এক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

গত রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্স হারলেও জোড়া গোল করেছেন এমবাপ্পে। এই জোড়া গোলে চলতি আসরে ফরাসি ফরোয়ার্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-এ। অন্যদিকে মেসির ঝুলিতে এখন পর্যন্ত আছে ৮ গোল।

ফাইনালের সমীকরণটি বেশ জটিল। স্পেনের বিপক্ষে মেসি যদি দুটি গোলও করেন, তাও গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হবে না। কারণ, গোল সমান (১০টি করে) হলেও অ্যাসিস্টের দিক থেকেও দুজনে সমতায় থাকবেন (দুজনেরই অ্যাসিস্ট ৪টি করে)।

সে ক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী বিবেচনায় আসবে মাঠে কাটানো সময় (মিনিট)। নিয়মটি হলো, যে খেলোয়াড় কম সময় মাঠে খেলেছেন, তিনিই এগিয়ে থাকবেন। বর্তমানে মেসি খেলেছেন ৭১২ মিনিট আর এমবাপ্পে ৭৬৯ মিনিট। ফাইনালে মেসি যদি ৫৮ মিনিটের বেশি মাঠে থাকেন (যা প্রায় নিশ্চিত), তবে তাঁর মোট সময় এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ, কম সময় খেলার সুবিধায় গোল্ডেন বুট চলে যাবে ফরাসি তারকার ঝুলিতে।

তাই গোল্ডেন বুট জিততে হলে মেসির সামনে মূলত দুটি পথ খোলা রয়েছে:

১. স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করা। সে ক্ষেত্রে এমবাপ্পের ১০ গোল ছাড়িয়ে মেসির গোলসংখ্যা হবে ১১।

২. ফাইনালে দুটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে অন্তত একটি গোল করানো (অ্যাসিস্ট)। এতে গোলসংখ্যা ১০ হলেও ৫টি অ্যাসিস্টের কল্যাণে এমবাপ্পেকে টপকে যাবেন মেসি।

বাস্তবতা বলছে, দ্বিতীয় সমীকরণটি মেলানোর চেয়ে হ্যাটট্রিক করাটাই হবে বেশি কার্যকর। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে হ্যাটট্রিক করার ইতিহাস বড্ড বিরল। এখন পর্যন্ত এই কীর্তি গড়তে পেরেছেন কেবল দুজন-১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট এবং ২০২২ সালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।

অবশ্য আশার কথা হলো, এই আসরেই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তিন গোল করেছিলেন তিনি। কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরুতে যা করেছিলেন, আসরের শেষ ম্যাচে এসে কি তার পুনরাবৃত্তি করতে পারবেন?

পার্থক্যটা অবশ্য আকাশ-পাতাল। সেদিন প্রতিপক্ষ ছিল আলজেরিয়া, আর আজ সামনে ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেন।

ফাইনালে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার অনুশীলনে অবশ্য ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেছে মেসিকে। রদ্রিগো ডি পল ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসদের সঙ্গে হেসেখেলে শেষ প্রস্তুতি সেরেছেন তিনি। এখন মাঠের লড়াইয়ে মেসির জাদুকরী পা নতুন কোনো গল্প লেখে কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক ফাইনালেই মিলবে সব প্রশ্নের উত্তর।গোল্ডেন বুটের সামনে এমবাপ্পে-প্রাচীর, মেসির চাই ‘অসম্ভব’ এক রূপকথা।