বিজ্ঞাপন
আবহাওয়া

২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির শঙ্কা : ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় আছে যেসব এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Published :
২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির শঙ্কা : ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় আছে যেসব এলাকা

সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।  বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত এই তিন দিনে জেলাগুলোতে প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে পার্বত্য এলাকায় পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকি এবং সমতল অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) চট্টগ্রাম বিভাগে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আমবাগান এলাকায় সর্বোচ্চ ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বান্দরবানে ২১০ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৬৫ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


টানা ও ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ভূমিধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া অধিদপ্তর বেশ কিছু এলাকাকে ভূমিধসের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে-


কক্সবাজার: টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮, ৯ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং বাঁশখালী উপজেলা।
বান্দরবান: নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও বান্দরবান সদর উপজেলা।
পার্বত্য জেলা: রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ি এলাকা।


দুর্যোগপূর্ণ এই সময়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে। পাহাড়ের ঢাল বা অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের অনতিবিলম্বে নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের কিছু জরুরি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-


শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে রাখা।
টর্চলাইট, মোমবাতি, দিয়াশলাই এবং অন্তত তিন দিনের ব্যবহারের উপযোগী কাপড় নেওয়া।
মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জলনিরোধক ব্যাগে সুরক্ষিত রাখা।
জরুরি যোগাযোগের সুবিধার্থে মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক পর্যাপ্ত চার্জ দিয়ে রাখা।
গবাদিপশু ও পোষা প্রাণীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া।
আকস্মিক বন্যার শঙ্কা ও প্রশাসনিক তৎপরতা


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পাহাড় ধসের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের নদী ও পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে নদী বা ঝিরির কাছাকাছি অবস্থান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা এড়াতে ঘরের আশপাশের নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা ও জরুরি বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত জনগণের মাঝে দ্রুত সতর্কবার্তা ও প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।