বিজ্ঞাপন
মহাপ্রয়াণ

চলে গেলেন অভিনেত্রী রীনা রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট

Published :
চলে গেলেন অভিনেত্রী রীনা রহমান

ছবি : রীনা রহমান

দেশের টেলিভিশন, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের পরিচিত ও জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী রীনা রহমান আর নেই। সোমবার (৩ আগস্ট) রাত নয়টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রীনা রহমানের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’। তাঁর প্রয়াণে দেশের অভিনয় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক ও অভিনয়শিল্পী সংঘ সূত্রে জানা গেছে, প্রবীণ এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকসহ নানা ধরনের বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তিনি চিকুনগুনিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ বোধ করলেও পরবর্তীতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। অসুস্থতার কারণে সম্প্রতি তিনি অভিনয় থেকে কিছুটা বিরতি নিতে বাধ্য হন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি দীপ্ত টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘পরম্পরা’য় অভিনয় করছিলেন।

রিনা রহমানের অভিনয়ে হাতেখড়ি হয়েছিল খুলনায়। সেখানে খুলনা নাট্যনিকেতনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ ও গানের প্রশিক্ষণ নেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে মঞ্চনাটক ‘এ বাড়ি ও বাড়ি’র মাধ্যমে অভিনয়ের আঙিনায় তাঁর নিয়মিত পথচলা শুরু হয়। ১৯৭৪ সালে তিনি পেশাদার অভিনয় জীবন শুরু করেন এবং দীর্ঘদিন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ‘বিশেষ’ গ্রেডের তালিকাভুক্ত নিয়মিত শিল্পী হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া বিটিভি ও বেতারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলের অসংখ্য নাটকে তিনি নিজের অভিনয়শৈলী প্রদর্শন করেছেন।

দীর্ঘ সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ারে রীনা রহমান উপহার দিয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় কাজ। ১৯৮৭ সালে বিটিভির কালজয়ী ধারাবাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’-এ অভিনয় করে তিনি দারুণ প্রশংসিত হন। এছাড়া বিটিভির সাড়াজাগানো নাটক ‘দুর্বুদ্ধি’, ‘কলংক’ এবং দীপ্ত টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মান অভিমান’-এ তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটেছে।

শুধু নাটকই নয়, চলচ্চিত্রেও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন রীনা রহমান। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ঘানি’ (২০০৬), ‘ঠিকানা’ (১৯৯৪), ‘আনারকলি’, ‘আমার বাবার নাম’ ও ‘ঘায়েল’।

অসুস্থতার মধ্যেও অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল এই শিল্পীর। অতীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘শরীর সায় না দিলেও আমি মরার আগপর্যন্ত কাজ করে যেতে চাই।’

দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর এই চলে যাওয়াকে দেশের নাট্যাঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। প্রবীণ এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।