বিজ্ঞাপন
জাতীয়

টেলিগ্রামে চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে ৯৪ লাখ টাকা লুট

বাংলা সংযোগ ডেস্ক

Published :
টেলিগ্রামে চাকরির স্বপ্ন দেখিয়ে ৯৪ লাখ টাকা লুট

গ্রেপ্তারদের সঙ্গে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

চাকরি পাওয়ার আশায় বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে শুরু হয়েছিল যোগাযোগ। এরপর কমিশনের লোভ দেখিয়ে একের পর এক অনলাইনে ভুয়া অর্ডারের ফাঁদ। অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের মুনাফা দেখানো হলেও সেই টাকা আর তোলা যায়নি। উল্টো নানা অজুহাতে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

ভয়ংকর এই অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার দুজন হলেন জুলহাস উদ্দিন (৩৯) ও প্রহড় (২৮)।

আজ শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ তাঁদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে পাতা হয় প্রতারণার ফাঁদ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৪ আগস্ট মেহেদি হক নিয়ন নামের এক ভুক্তভোগীকে টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি আইডি থেকে ‘Zales’ (জেলস) জুয়েলারি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট দেখে চাকরিতে আগ্রহী হন তিনি। এরপরই শুরু হয় প্রতারণার মূল কৌশল।

চক্রটি একটি ফিশিং লিংকের (প্রতারণামূলক লিংক) মাধ্যমে নিয়নকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করে। প্রথমে সেখানে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্ন করার পর তাঁকে কিছু কমিশন দেওয়া হয়। ওই কমিশন পেয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা আরও বেড়ে যায়।

মুনাফার লোভে খোয়ালেন ৯৪ লাখ টাকা
আস্থা অর্জনের পর পরবর্তী ধাপে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। একপর্যায়ে জানানো হয়, বিভিন্ন রাউন্ডে মোট ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি অর্ডারের সঙ্গে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে মুনাফার অঙ্ক দেখানো হতো। ফলে তাঁর কাছে মনে হচ্ছিল, বিনিয়োগ করা টাকা দ্রুতই লাভসহ ফেরত পাওয়া যাবে। কিন্তু টাকা উত্তোলনের সময়ই পাল্টে যায় চক্রটির কৌশল।

মুনাফার টাকা তুলতে হলে আরও অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে এবং দিতে হবে অতিরিক্ত অর্থ এমন নানা অজুহাতে দফায় দফায় টাকা চাওয়া হয়। চক্রটির কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিকবার টাকা পাঠান নিয়ন। এভাবে শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি।

সিআইডির অভিযান, এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১২
বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার নিয়ন চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা করেন। পরে সিআইডি মামলাটির তদন্তভার নেয়। তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। এর আগে এই চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তদন্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মামলার ১৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় প্রহড়কে।’

মামলাটির তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।