চকবাজারে মনসুর প্লাজায় আগুন: ৫ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি
ছবি : সংগৃহীত
পুরান ঢাকার চকবাজারের মোগলটুলী এলাকায় একটি সাততলা বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে লাগা এই আগুন টানা পাঁচ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সরু গলি, পানির তীব্র সংকট আর প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে।
স্থানীয়দের কাছে ভবনটি মনজুর খান প্লাজা, মনসুর ভবন বা মনসুর আলী কমপ্লেক্স নামে পরিচিত। এর ষষ্ঠ তলায় মূলত বিভিন্ন পণ্যের গুদাম রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম আজ রাত ১০টার দিকে জানান, সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় আগুন লেগেছে। সেখানে থাকা প্রতিটি গুদামই তালাবদ্ধ। তাই তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে সময় লাগছে।
এর আগে রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের আরেক কর্মকর্তা শাহজাহান হোসেন জানান, পুরান ঢাকার সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারছে না। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইউনিটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে তারা আগুন লাগার খবর পান। যানজট ও সরু রাস্তার বাধা পেরিয়ে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও আগুনের ভয়াবহতা বাড়ায় পর্যায়ক্রমে তা বাড়িয়ে ১০টি করা হয়।
সারা দিনের বেচাকেনা শেষে ব্যবসায়ীরা যখন হিসাব মেলাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ভবনের ওপরের তলা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। মুহূর্তেই সেই ধোঁয়া রূপ নেয় আগুনের লেলিহান শিখায়। নিচে দাঁড়িয়ে অসহায় চোখে নিজেদের সাজানো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়তে দেখেন ব্যবসায়ীরা।
ঘটনাস্থলে এক ব্যবসায়ী হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সব শেষ ভাই। আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। আমার গোডাউন ছয়তলায়। আগুনের শুরুটা হইছে অন্য পাশে, আমরা তখনো নিরাপদে ছিলাম। এক ঘণ্টা আগেও আমরা নিরাপদে ছিলাম। এখন আমাদেরগুলোও জ্বলতেছে।’

ফায়ার সার্ভিসের দেরির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস যখন আসছে, তখন আগুন অল্প পরিসরে ছিল। তিন ঘণ্টা ধরে তারা কী করছে? পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায়নি। আমার সব শেষ হয়ে গেল।”
সুমন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আগুন লাগার সময় ভবনের নিচের দিকে মানুষ ছিল। তিনি বলেন, “‘ছয়তলায় যখন আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে, তখন চার ও পাঁচতলায় মানুষজন ছিল। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে আমরা অন্য পাশে চলে যাই। পরবর্তী সময়ে ওই মানুষগুলো কোথায় গেছে বা তাদের অবস্থা কেমন, তা বলতে পারব না।’”
স্থানীয়রা জানান, ভবনটিতে ব্যাগ, কসমেটিকস ও কেমিক্যালের গুদাম থাকায় আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুনের তাপে ভবনের কাচ ভেঙে নিচে পড়তে থাকে এবং পাশের বৈদ্যুতিক লাইনের তারেও আগুন ধরে যায়। আশপাশের ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ, হতাহতের খবর বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
উল্লেখ্য, পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড নতুন নয়। গত বছরের ডিসেম্বরেও চকবাজারের রহমতগঞ্জ এলাকার ডালপট্টিতে একটি তিনতলা আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। অপরিকল্পিত ভবন ও রাসায়নিকের গুদামের কারণে এই এলাকাটি সব সময়ই অগ্নিকাণ্ডের চরম ঝুঁকিতে থাকে।