নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি মাজারের বার্ষিক ওরস ও বাউল গানের অনুষ্ঠানে কালেমা খচিত পতাকা হাতে একদল যুবকের বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মাজারের ভক্ত ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।


গত শনিবার (২৭ জুন) রাত ১২টার দিকে উপজেলার গোলাকান্দাইল বাজার সংলগ্ন হযরত কলিমুদ্দিন শাহর মাজারে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল রোববার (২৮ জুন) ঘটনাটির একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কালেমা খচিত সাদা-কালো পতাকা হাতে একদল যুবক মাজারে প্রবেশ করছেন। এ সময় মাজারের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে তাঁদের বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিবছর হযরত কলিমুদ্দিন শাহর ওরস হয়ে আসছে। শনিবারও মাজারটিতে বার্ষিক ওরস উপলক্ষে বাউল গানের আয়োজন ছিল। রাত ১২টার দিকে অনুষ্ঠানের শেষ দিকে মোটরসাইকেলে করে একদল যুবক কালেমা খচিত সাদা-কালো পতাকা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মাজারের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়। পরে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।


স্থানীয়দের দাবি, কাউসার হোসেন সজল নামে এক যুবক ওই দলটির নেতৃত্বে ছিলেন। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও ঘটনাসংক্রান্ত একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। জানা গেছে, তিনি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন এবং গাউছিয়া মার্কেটে তাঁর একটি আতরের দোকান রয়েছে। ওই দোকানে কালেমা খচিত পতাকাও বিক্রি করা হয়। তাঁর বাবা রতন মিয়া ভুলতা পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, “শনিবার মাজারটিতে ওরস উপলক্ষে অনুষ্ঠান চলছিল। আয়োজনের শেষ দিকে তবারক বিতরণের সময় তৌহিদী জনতার কিছু সদস্য বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে মাজারের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।”


ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।