গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের একটি অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে জানআলীহাট ও ষোলোশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী শমসের পাড়া এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, মঙ্গলবার থেকে শমসের পাড়া এলাকায় রেললাইন প্রায় দেড় থেকে দুই ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। এর ফলে লাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ গতকাল রাতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। আজ বুধবার সকালে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী রেল চলাচলের সার্বিক পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনে পানি উঠে যাওয়ায় মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কক্সবাজার যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। ট্রেনটি আজ বুধবার বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম থেকে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আজ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সকল প্রকার ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যেসব যাত্রী গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে মাঝপথে আটকা পড়েছেন, তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা চাইলে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিটের পূর্ণ মূল্য ফেরত নিতে পারবেন। স্থগিত হওয়া অন্যান্য যাত্রার টিকিটের টাকাও নিয়ম অনুযায়ী ফেরত দেওয়া হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ে জানায়, পানি নেমে যাওয়ার পর লাইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুনরায় ট্রেন চলাচলের সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।