সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর শুরুতে দলীয় সোর্সের পক্ষ থেকে সেটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ প্রযুক্তিতে তৈরি বলে দাবি করা হলেও, বর্তমানে দলটি বলছে, ভিডিওতে থাকা নারী ওই নেতার দ্বিতীয় স্ত্রী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এই নতুন তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাত থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে।

ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় রয়েছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। ভিডিওর কোনো অংশে তাকে ফোনে কথা বলতে দেখা যায়, আবার কোনো অংশে ওই তরুণীর সঙ্গে আলাপচারিতায় মগ্ন থাকতে দেখা গেছে। সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, দৃশ্যগুলো ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা।

দলের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরপরই সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল সংশ্লিষ্ট ‘ক্রাইম বার্তা’ নামক একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে দাবি করা হয়, এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া ভিডিও।

তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই সেই অবস্থান থেকে সরে আসে স্থানীয় জামায়াত। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান আজ সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, “ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেবের (গাজী নজরুল ইসলাম) সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি এই বিয়ে করেছেন।”

একই নেতা আরও জানান, বিয়ের সঠিক তারিখ তার জানা নেই, তবে এটি বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা। কে বা কারা ব্যক্তিগত মুহূর্তের এই ভিডিও ফাঁস করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এআই প্রযুক্তির প্রমাণ মেলেনি
তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান (ফ্যাক্ট-চেক) ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, সেখানে ডিজিটাল কারসাজি বা এআই (Deepfake) ব্যবহারের কোনো জোরালো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিডিওর শব্দ, আলো এবং শারীরিক মুভমেন্ট স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছে তাদের কাছে।

তরুণীর পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা
ভিডিওতে দেখা যাওয়া তরুণীর বয়স নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিতর্ক চলছে। সংশ্লিষ্ট কিছু সূত্রের দাবি, ওই তরুণী ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী (বর্তমানে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হওয়ার কথা)। তবে আরেকটি সূত্র বলছে, তার বর্তমান বয়স ১৮ বছরের কিছু বেশি। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তার পূর্ণ পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

জানা গেছে, ওই তরুণীর পরিবারের কিছু সদস্য জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এ বিষয়ে কথা বলতে তরুণীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপও নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

গাজী নজরুলের নীরবতা
পুরো বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

সাতক্ষীরার স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি এটি বৈধ বিবাহই হয়, তবে শুরুতে কেন এটিকে ‘এআই’ বা ভুয়া বলে প্রচার করার চেষ্টা করা হলো। দল ও নেতার পক্ষ থেকে কেন এই লুকোচুরি, তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।