৫ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে রিমান্ডে চাইছে পুলিশ
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) জি এম নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে ঢাকার আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মহানগর হাকিম এহসানুল ইসলামের আদালতে এই রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দুপুরে তাঁদের আদালতে নেওয়ার পর কড়া নিরাপত্তায় আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকার এই রিমান্ড আবেদন করেন।
যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন। মূলত পাঁচটি বিষয়ের উত্তর জানতে এই রিমান্ড চাওয়া হয়েছে:
১. মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় এমপি নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ঠিক কী করছিলেন?
২. মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ায় তাঁদের দুজনের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না?
৩. মামলার পলাতক আসামি (নজরুলের শ্যালক) ওবায়দুর রহমানের বর্তমান অবস্থান ও এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা কী?
৪. অজ্ঞাতনামা অন্য কোনো আসামির সম্পৃক্ততা আছে কি না?
৫. ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদ্ঘাটন।
যেভাবে মামলার শুরু
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকা ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই এমপি নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগে নেওয়া হয়।
পরে রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নিহত মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা এবং নজরুলের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
ভিডিও ফাঁস ও দল থেকে বহিষ্কার
প্রবীণ রাজনীতিক জি এম নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত জুলাই মাসে মরিয়মের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হলে তিনি মরিয়মকে দ্বিতীয় বিয়ে করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তখন তাঁর প্রথম স্ত্রীও স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছিলেন।
তবে ওই ঘটনার পর ‘নৈতিক স্খলনের’ অভিযোগ এনে জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তাঁর সংসদ সদস্য পদটি এখনো বহাল রয়েছে।
জানা গেছে, ওই ঘটনার পর থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউয়ের ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে বসবাস শুরু করেছিলেন এমপি নজরুল। আর সেই ফ্ল্যাট থেকেই গতকাল মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়।