বিজ্ঞাপন
জাতীয়

জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে রাইড শেয়ারিং চালকরা, কমেছে আয়

বাংলা সংযোগ ডেস্ক

Published :
জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে রাইড শেয়ারিং চালকরা, কমেছে আয়

ছবি : বাংলা সংযোগ

হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর রাইড শেয়ারিং চালকেরা। তেলের দাম বাড়লেও রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলোতে ভাড়ার হার বাড়েনি। অন্যদিকে ভাড়ার পরিমাণ বেশি শুনে চুক্তিতেও (অফলাইন) যেতে চাইছেন না যাত্রীরা। ফলে একদিকে যেমন জ্বালানি খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে তীব্র যাত্রী-সংকট। সব মিলিয়ে আয় কমে যাওয়ায় হতাশায় দিন পার করছেন চালকেরা।

‘আয় বাড়ে না, শুধু খরচ বাড়ে’
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেলিম হোসেন। সংসারের বাড়তি খরচের জোগান দিতে চাকরির পাশাপাশি বাইক নিয়ে রাইড শেয়ারিং করেন তিনি। প্রতি মাসে তাঁর পারিবারিক খরচ প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা। জ্বালানির এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ এই রাইডার।

হতাশা প্রকাশ করে সেলিম বলেন, ‘মাস শেষে আমার খরচ ৪০-৪২ হাজার টাকা। কিন্তু আয় তো বাড়ে না। জিনিসপত্রের দাম শুধু বাড়ছেই, সেই সঙ্গে বাড়ছে খরচ। এর ওপর সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি তেলের দাম বেড়ে গেছে!’

সেলিম জানান, প্রতি ট্রিপে তাঁর আয় হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। কিন্তু এক ট্রিপ শেষ করে আরেক ট্রিপ পেতে অনেক সময় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করতে হয়। এই অপেক্ষার সময়ে চা-নাস্তা খেতে গিয়েই বাড়তি টাকা চলে যায়। তাঁর ভাষায়, ‘দেখা যায়, প্রতি ট্রিপে প্রায় ১০০ টাকার মতো খরচই হয়ে যায়। তাহলে দিন শেষে আর কত টাকাই বা থাকে! গত দুই মাসের মধ্যে আজকেই সবচেয়ে কম আয় করেছি। আয় কম হলে তো আর খরচ করতে মন চায় না।’

অ্যাপে কল ধরছেন না চালকেরা
রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে যাত্রীর অপেক্ষায় বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাইড শেয়ারিং চালক ওবায়দুল্লাহ। দিন শেষে তাঁর পকেটে এসেছে মাত্র ৩০০ টাকা।

ওবায়দুল্লাহর ভাষ্য, জ্বালানির দাম বাড়ার পর যাত্রী একেবারেই কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ার কারণে আজ কাস্টমারই আসছে না। ভাড়া নিয়ে কথাও বলছে না কেউ। অ্যাপেও ভাড়া বাড়ায়নি। সরাসরি যেতে চাইলে একটু বেশি ভাড়া চাইতে হয়, সেটা শুনে যাত্রীরাও যেতে রাজি হচ্ছেন না।’

বাড়তি দামের প্রভাব বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তেল তো আগের মতোই লাগবে। কিন্তু টাকা খরচ হবে বেশি। আগে এক হাজার টাকার তেলে তিন দিন পার করতে পারলেও এখন হয়তো দুই দিনেই শেষ হয়ে যাবে।’

একই এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা আরেক চালক কবির মিয়া জানালেন, তিনি অ্যাপের কল এড়িয়ে চলছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘উবার বা পাঠাও থেকে এখন কেউ কল করলে ধরি না। কারণ, সেখানে ভাড়া অনেক কম দেখায়, এই দামে গেলে পোষায় না। এর চেয়ে সামনাসামনি ভাড়ায় যা পাই, তাতেই যাই।’

পাম্পগুলোর চিত্র
জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে পেট্রোল পাম্পগুলোতেও। বিজয় সরণি সংলগ্ন ট্রাস্ট ফুয়েল পাম্পের কর্মী রাব্বি জানান, দাম বাড়ার আগের রাতে পাম্পে উপচে পড়া ভিড় ছিল। সেই তুলনায় দাম বাড়ার পরদিন সকালে ভিড় ছিল না বললেই চলে। তবে অফিস ছুটির পর কিছু মানুষ তেল নিতে এসেছেন।

কী বলছে সরকার ও বিরোধীরা?
গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার, যা ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়।

নতুন দাম অনুযায়ী—ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে গতকাল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাধ্য হয়েই সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এক বিবৃতিতে জামায়াত জানিয়েছে, দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা আরও বাড়বে এবং জনজীবন হয়ে উঠবে দুর্বিষহ।