বিজ্ঞাপন
ধর্ম ও জীবন

মনে মনে তালাক বললে কি তালাক হয়ে যায়?

বাংলা সংযোগ ডেস্ক

Published :
মনে মনে তালাক বললে কি তালাক হয়ে যায়?

দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও বিরোধ কোনোভাবেই মীমাংসা করা সম্ভব না হলে ইসলামে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি রয়েছে। তবে পারিবারিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ইসলামে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধের আশঙ্কা করলে তার (স্বামীর) পরিবার থেকে একজন এবং তার (স্ত্রীর) পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করবে। তারা উভয়ে নিষ্পত্তি চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবিশেষ অবহিত।’ (সুরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৫)

ইসলামে তালাকের বিধান থাকলেও অকারণে বিবাহবিচ্ছেদের পথে না হাঁটার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা রয়েছে। হাদিসে তালাককে ‘অপছন্দনীয় হালাল কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত মুআররিফ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে হালাল বিষয়ের মধ্যে তালাকের চেয়ে অধিকতর ঘৃণিত আর কিছু নেই।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৭)

মনে মনে তালাকের চিন্তার বিধান
অনেক সময় স্বামী ক্ষোভ বা রাগের মাথায় মনে মনে তালাকের কথা ভাবেন। কিন্তু মুখে শব্দ উচ্চারণ না করলে বা কাউকে না জানালে কি তালাক কার্যকর হবে?

ইসলামি শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, মুখে তালাকের শব্দ উচ্চারণ না করে শুধু মনে মনে তালাকের চিন্তা করলে তালাক কার্যকর হয় না। যদি কোনো স্বামী মনে মনে ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’—এমন কথা ভাবেন বা মনে মনে বারবার এটি আওড়ান, কিন্তু মুখে উচ্চারণ না করেন, তবে শুধু এ কারণে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটবে না।

এ বিষয়ে হাদিসের ভাষ্য হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের ভেতর যে কুমন্ত্রণা বা ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি হয়, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা সে অনুযায়ী কাজ করে বা মুখে উচ্চারণ করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫২৮)

বিখ্যাত ফকিহ ইবনে আবেদীন (রহ.)-এর মতে, কোনো ব্যক্তি তালাকের নিয়ত করলেও তালাকের স্পষ্ট বা ইঙ্গিতবহ কোনো শব্দ উচ্চারণ না করলে শুধু নিয়তের কারণে তালাক সংঘটিত হয় না। অর্থাৎ, শুধু মনে মনে তালাকের চিন্তা করার কারণে দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল থাকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে, তালাক অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। তালাকের বিষয়টি মুখে উচ্চারণ, লিখিতভাবে প্রকাশ, ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ, নিয়ত এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হতে পারে।

তাই বাস্তবে তালাকসংক্রান্ত কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে অনুমাননির্ভর কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সঠিক ফতোয়া জেনে নেওয়া জরুরি।

ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার দোয়া
শয়তানের কুমন্ত্রণা বা অহেতুক ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে কোরআনের এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে:

রাব্বি আউযু বিকা মিন হামাযাতিশ শায়াতিন। ওয়া আউযু বিকা রাব্বি আই-ইয়াহদুরুন।

অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই, যাতে তারা আমার কাছে উপস্থিত না হয়।’ (সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৯৭-৯৮)