মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে, চুনোপুঁটিরা কারাগারে
ভাঙচুরের পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার । ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের নাম উঠে এলেও তাদের অনেকেই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে তাদের বেশির ভাগই সাধারণ ভাড়াটে।
এদিকে রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওসির গাফিলতির বিষয়টি উঠে আসে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে কয়েক শ লোক রাড্ডা সেন্টারে হামলা চালায়। এ সময় মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করা হয়। পরে সেখানে সমিতির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
হামলার দুই দিন পরও গতকাল রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের মাঝেই সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। নিয়মিত সেবা নিতে আসা জুলিয়া বেগম জানান, বাসার কাছে হওয়ায় তিনি নিয়মিত তাঁর শিশুকে এখানে টিকা দেন। তবে ভাঙচুরের ফলে এখন সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, ৫০ বছর ধরে গরিব মা ও শিশুদের সেবা দিয়ে আসা এ প্রতিষ্ঠানের ওপর চালানো হামলা অমানবিক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির ৯১ সদস্যের তালিকায় স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিকদের নাম রয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় বিএনপি নেত্রী ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়াসহ ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এবং প্রত্যক্ষ মদদেই এ ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার জাকির হোসেন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তে যারাই সম্পৃক্ত থাকবে, তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, আজ সোমবার থেকেই কেন্দ্রটি সংস্কারের কাজ শুরু হবে। যারা দখল বা আইনি দাবির কথা বলছেন, তারা সেটি আদালতের মাধ্যমে করতে পারতেন। রাতের অন্ধকারে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া আইনসিদ্ধ নয়।
এর আগে দুপুরে ঘটনাস্থলে এসে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, এক এমপির নেতৃত্বে মবতন্ত্র কায়েম করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় ওসি জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেননি। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল আসার পরও তিনি ব্যবস্থা নিতে দেরি করেন। এ ঘটনায় প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে গতকাল তাঁকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সমিতি জমিটি বরাদ্দ পেলেও দখল পায়নি। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবারের এ সহিংস হামলার ঘটনা ঘটল। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও নিন্দা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : সমকাল