বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক

ইউরোপের ক্রেতাদের ‘তেল দেবে না’ সৌদি

বাংলা সংযোগ ডেস্ক

Published :
ইউরোপের ক্রেতাদের ‘তেল দেবে না’ সৌদি

ছবি : সংগৃহীত

লোহিত সাগরে গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইনে হামলার জেরে আগামী অক্টোবরে ইউরোপের অন্তত দুটি তেল শোধনাগারে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সৌদি আরামকো। গতকাল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউরোপের ক্রেতারা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব থেকে তেল কিনে থাকে। এসব চুক্তিতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা দেওয়া থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামী মাসে এই চুক্তির আওতাভুক্ত সরবরাহ পাবে না রিফাইনার বা শোধনাগারগুলো। তাঁদের মতে, সরবরাহ বন্ধের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ব্লুমবার্গের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও সৌদি আরামকো তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলার পর বাধ্য হয়ে নিজেদের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনটির আংশিক কার্যক্রম হয়তো আবার শুরু হতে পারে। তবে পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরতে অন্তত ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

ইউরোপের তেল শোধনাগারগুলো মূলত মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির থেকে সৌদির অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। এই বন্দরটি একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, লোহিত সাগরের পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে সৌদি আরামকোর ক্রেতাদের মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পোল্যান্ডের জ্বালানি কোম্পানি ‘ওরলেন’ গত শুক্রবারের পর থেকে বিকল্প উৎস থেকে তেল কিনতে ১০টির বেশি দরপত্র আহ্বান করেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মাসিক তেল বাজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত (ওইসিডি) ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। সরবরাহ ব্যাহত হলে ইউরোপের এই বিশাল জ্বালানি বাজার বড় ধরনের ধাক্কা খাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।