বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক

রাহুলের মিছিলে পুলিশের বাধা, মোদি-শাহকে কড়া হুঁশিয়ারি

বাংলা সংযোগ ডেস্ক

Last Update :
Published :
রাহুলের মিছিলে পুলিশের বাধা, মোদি-শাহকে কড়া হুঁশিয়ারি

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর সুপ্রিম কোর্টমুখী পদযাত্রায় বাধা দিয়েছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এই মহামিছিল শুরু হয়। তবে শীর্ষ আদালতের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই ভগবান দাস রোডে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেওয়া হয়।

দিল্লির রাজপথে দাঁড়িয়ে এদিন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো তোপ দাগেন রাহুল গান্ধী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, সিইসির পদত্যাগের দাবিতে আমরা আজ ঐক্যবদ্ধ। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পালা। কোনোভাবেই আমাদের থামানো যাবে না।’

রাহুলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সরাসরি চাপে পড়ে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ভোটার তালিকা সংশোধন ও গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থায় ব্যাপক কারচুপি করেছেন।

দৈনিক ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধীদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে রাহুলের সঙ্গে পা মিলিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা।

প্রায় দুই কিলোমিটার হাঁটার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরে ভগবান দাস রোডে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে মিছিলটি। বাধা পেয়েও বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোনোর চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।

রাজপথের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়েও জোটবদ্ধ হয়েছে ভারতের বিরোধী শিবির। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এতে সই করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায় এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব।

এর আগে গত শনিবার সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল বিভিন্ন দল ও সংগঠন। কিন্তু সেদিন আন্দোলন দমাতে দিল্লিজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ, আটক করা হয় কয়েক হাজার মানুষকে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এক দিনের মাথায় ফের রাজপথে নামল কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা।

এদিকে, এই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে তরুণদের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’। রোববার এক সংবাদ সম্মেলন থেকে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের দমন-পীড়ন ও কড়াকড়ির তীব্র সমালোচনা করেন সিজেপি নেতারা। সিইসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।