‘ক্ষমতার পালাবদল চাওয়া কোনো অপরাধ নয়’ : নেহা বোরার আইনজীবী
ছবি : সংগৃহীত
শান্তি বজায় রাখার জন্য ১০ হাজার রুপির মুচলেকা (পিস বন্ড) দিতে ভারতের অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকে নোটিশ দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। পুলিশের ওই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এই ছাত্রনেত্রী। তাঁর দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে আজ গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভিন্নমতের সীমা নিয়ে আদালতে তীব্র আইনি বিতর্ক হয়েছে।
শুনানিতে নেহা বোরার আইনজীবী দাবি করেন, একটি সক্রিয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবি জানানো মৌলিকভাবেই আইনসম্মত একটি অধিকার।
ছাত্রনেত্রীর পক্ষে দাঁড়িয়ে তাঁর আইনজীবী আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানানো কিংবা সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করা ভারতের সংবিধানের ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে।
আইনজীবী আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, বিক্ষোভ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো বিষয়গুলো কোনোভাবেই বেআইনি কাজ নয়। সুতরাং, এসব গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার কারণে কারও কাছ থেকে প্রতিরোধমূলক শান্তিবিনষ্টের মুচলেকা (প্রিভেন্টিভ পিস বন্ড) আদায়ের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
আদালতে দিল্লি পুলিশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা। তিনি আবেদনকারীর যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, একটি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন কেবল নির্বাচনী ব্যালটের মাধ্যমেই হওয়া উচিত; জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে নয়।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দাবি, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোয় বারবার বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের বিষয়টি মূল্যায়ন করার পরই নেহা বোরার বিরুদ্ধে ওই নোটিশ জারি করা হয়েছিল।

দীর্ঘ শুনানিকালে নাগরিকদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে জারি করা এ ধরনের প্রতিরোধমূলক নোটিশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আদালত। এ ধরনের আইনি নোটিশের সঙ্গে যে একধরনের সামাজিক কলঙ্ক বা চাপ জড়িয়ে থাকে, সে বিষয়ে বেঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
আদালত এই মর্মে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, কোনো আনুষ্ঠানিক বিচারিক সিদ্ধান্ত বা রায়ের আগেই নিছক প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের গায়ে কোনো আগাম নেতিবাচক তকমা সেঁটে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা গভীরভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন।
আপাতত এই বিষয়ে আদালতের আদেশের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
