বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক

ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘চাম্পি’: তাইওয়ানে নিহত ১, জাপান ও চীনে সতর্কতা

বাংলা সংযোগ ডেস্ক

Last Update :
Published :
ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘চাম্পি’: তাইওয়ানে নিহত ১, জাপান ও চীনে সতর্কতা

ছবি : AP

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আবারও চোখ রাঙাচ্ছে একটি শক্তিশালী সুপার টাইফুন। ‘চাম্পি’ নামের এই টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ান, জাপান ও চীনের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে তাইওয়ানে টাইফুনের প্রভাবে ১ জনের মৃত্যু এবং ৯৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বাতিল করা হয়েছে শত শত ফ্লাইট, বন্ধ রাখা হয়েছে আর্থিক বাজার।

শুরুতে টাইফুনটির গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার হওয়ার আশঙ্কা করা হলেও বর্তমানে এর তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে গতি কমলেও এটি এখনো ‘সুপার টাইফুন’ ক্যাটাগরিতেই রয়েছে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, বর্তমানে ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়টি তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে। আবহাওয়া সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ঝড়টির ব্যাসার্ধ প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। এর গতি কমে গেলে বা দিক পরিবর্তন করলে শক্তিশালী বাতাস দীর্ঘ সময়ের জন্য তাইওয়ানের বিশাল অংশে প্রভাব ফেলতে পারে। ঝড়ের এই তাণ্ডব টানা দুদিন স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টাইফুনের প্রভাবে তাইওয়ানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভূমিধসের শঙ্কায় পার্বত্য অঞ্চলগুলো থেকে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৩০০ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটিতে সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আর্থিক বাজারগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুক্রবারের জন্য নির্ধারিত ২৬২টি অভ্যন্তরীণ এবং ৬৬৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তবে উত্তর ও দক্ষিণ তাইওয়ানের মধ্যে দ্রুতগতির রেল পরিষেবা এখনো চালু রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় উত্তর-পূর্ব ইলান কাউন্টিতে বালির বস্তা, উভচর যান ও রাবার বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সু'আও বন্দর নগরীর প্রধান লি মিং-চেন জানিয়েছেন, প্রয়োজনে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হবে।

টাইফুন চাম্পির প্রভাব জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিম দ্বীপপুঞ্জেও প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে। ওকিনাওয়া অঞ্চলে অন্তত ৩ হাজার ৬৩০টি বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ঝুঁকি এড়াতে জাপানের চারটি বিমান সংস্থা ১৬০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ পুরো দিনের জন্য মিয়াকো এবং ইশিগাকি বিমানবন্দরগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দেশবাসীকে প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিধস ও বন্যার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, চাম্পি হলো চলতি বছর জাপানে আঘাত হানা ৩০তম টাইফুন। ২০১৩ সালের পর দেশটিতে এক বছরে এত বেশিসংখ্যক টাইফুন আর দেখা যায়নি। ফিলিপাইনে এই একই টাইফুন ‘রোসাল’ নামে পরিচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ বছর টাইফুনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরো এশিয়া অঞ্চলেই গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ধারাবাহিক প্রতিবেদন

ঘটনাপ্রবাহ