‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করল হোয়াইট হাউস, চলবে ২৪ ঘণ্টার স্ট্রিমিং
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধ এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নিজস্ব ২৪ ঘণ্টার ভিডিও স্ট্রিমিং চ্যানেল ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ চালু করেছে হোয়াইট হাউস।
স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ইউটিউবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই চ্যানেলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী ঘোষণা ও বিভিন্ন কার্যক্রম সরাসরি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রেস পাস বাতিল ও মামলা
এই ঘটনার ঠিক কয়েক দিন আগেই সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের অভিযোগ, এই সংবাদমাধ্যমগুলো তার প্রশাসন নিয়ে নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ (ফেক নিউজ) প্রচার করছে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওই তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল বা জব্দ করা হয়।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এমন কঠোর হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে সোমবার সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো আদালতে মামলা দায়ের করেছে। তাদের দাবি, হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকারকে সরাসরি লঙ্ঘন করছে।
বিরল পরিস্থিতির মুখে হোয়াইট হাউস মিডিয়া পুল
সোমবার এই সংকট আরও গভীর হয়, যখন হোয়াইট হাউস টেলিভিশন পুলের পাঁচ সদস্য—এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ ও এনবিসি যৌথ কভারেজ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন সিএনএনকে তাদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে বাধা দেয় হোয়াইট হাউস। এর প্রতিবাদে বাকি চারটি নেটওয়ার্কও বিকল্প কোনো প্রতিনিধি পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়।
উল্লেখ্য, সাধারণত টেলিভিশন পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের নিয়মিত কার্যক্রম ও অনুষ্ঠানগুলোর ভিডিও সব সংবাদমাধ্যমের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বড় পাঁচটি নেটওয়ার্কের এমন যৌথ কভারেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে এক বিরল ও অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প
মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে এই বিরোধের মধ্যেই হোয়াইট হাউস নিজস্ব এই ভিডিও স্ট্রিম চালু করার মাধ্যমে সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানোর কৌশল গ্রহণ করেছে। এখন থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য ও বিভিন্ন ফুটেজ কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি দর্শকদের স্ক্রিনে দেখা যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলধারার সংবাদমাধ্যমের ওপর ক্রমবর্ধমান অবিশ্বাস এবং নিজের বার্তা সরাসরি প্রচারের উদ্দেশ্য থেকেই ট্রাম্প এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
(তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ)