আদালতের আদেশকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি ট্রাম্প প্রশাসনের
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশে হোয়াইট হাউজে প্রবেশের হারানো অধিকার ফিরে পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের বাধার মুখে পড়েছেন সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হোয়াইট হাউজের কড়া নিরাপত্তার সামনে তাদের আটকে দেওয়া হয়।
অথচ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন ফেডারেল বিচারক টিমোথি কেলি তিন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউজে প্রবেশের অনুমতি পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা এই নিষেধাজ্ঞা ‘সাংবিধানিকভাবে বেআইনি’ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ তুলে এসব সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। প্রশাসনের দাবি ছিল, সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের কার্যক্রম নিয়ে ‘মিথ্যা’ ও ‘মনগড়া’ তথ্য প্রকাশ করছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই তিন সংবাদমাধ্যম মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, এই নিষেধাজ্ঞা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের আদেশের পর হোয়াইট হাউজের অপারেশনস পরিচালক জানিয়েছিলেন, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রেস পাস ও জব্দ করা ব্যাজ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরই তিন সংবাদমাধ্যম জানায়, তাদের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউজে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।
কিন্তু পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় সন্ধ্যায়। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নৈশভোজ কাভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নতুন করে বাধার মুখে পড়েন। সিএনএন জানিয়েছে, জিনপিং হোয়াইট হাউজে পৌঁছানোর মাত্র এক ঘণ্টা আগে তাদের জানানো হয়, পুরো দলকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। শুধুমাত্র একজন ফটোসাংবাদিক ও একজন অডিও টেকনিশিয়ানকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে; বাদ দেওয়া হয় প্রতিবেদক ও প্রযোজকদের। একইভাবে এমএস নাউয়ের হোয়াইট হাউজ প্রতিবেদক লরা ব্যারন-লোপেজকেও ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। হোয়াইট হাউজের কর্মীরা তাকে যোগাযোগ করতে বলেন হাউজের পরিচালকের সঙ্গে।
আদালতের নির্দেশের পরেও সন্ধ্যায় সাংবাদিক আটকের এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এই তিন সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে ফক্স নিউজ, এনবিসি, সিবিএস ও এবিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কয়েকটি গণমাধ্যম সংহতি জানিয়ে হোয়াইট হাউজের নিয়মিত কভারেজ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। আদালতের রায়ের পর এখনকার এই পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে গণমাধ্যমগুলোর বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: বিবিসি