সৌদি আরবে তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অদূরে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। শনিবারের এই হামলার পর ওই স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রিয়াদের আরামকো শোধনাগারে হামলার পরপরই সেখান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। ঘটনার পরপরই দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ কিংবা আরামকো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হামলার সত্যতা বা আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই হামলার দায় স্বীকার করে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার ফলে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়।
এই হামলার কারণ ব্যাখ্যা করে ইয়াহিয়া সারি জানান, ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে রাজধানী সানায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অব্যাহত বিমান হামলার ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে এই পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে।
হুথি মুখপাত্রের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরব প্রায় ৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর জবাবেই তারা সৌদি আরবের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ চলাকালে হুথিরা মাঝেমধ্যেই সৌদি আরবের ভেতরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। সৌদি আরব ও তাদের মিত্ররা বরাবরই এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসলেও তেহরান তা অস্বীকার করে আসছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।