বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প নয়, শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই

বাংলা সংযোগ ডেস্ক

Published :
ট্রাম্প নয়, শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই

ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল, এবার হয়তো শিঁকে ছিঁড়তে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। গুঞ্জনও ছিল বেশ। তবে সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতে নিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ বছরের বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে।

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল আলোচনা ছিল। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কার পাওয়ার প্রকাশ্য আকাঙ্ক্ষা দেখিয়ে আসছিলেন। সম্ভাব্য বিজয়ীর তালিকায় তাঁর নাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে বেশ চর্চাও হচ্ছিল। তবে নোবেল কমিটি শেষ পর্যন্ত মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করা এক নারীকেই বেছে নিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে নাভি পিল্লাই এক সুপরিচিত নাম। দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক এবং রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে।

এ বছর পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে এক-চতুর্থাংশের বেশি ছিল বিভিন্ন সংস্থা। ট্রাম্প ছাড়াও সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নাম আলোচনায় ছিল। প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সুদানের জরুরি সহায়তা দল, ইউক্রেনে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এবং দুটি আন্তর্জাতিক আদালতের নামও জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছিল।

নোবেল পুরস্কার বিশ্লেষকদের মতে, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক ভ্রাতৃত্ব জোরদার এবং মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। নাভি পিল্লাইয়ের নির্বাচন তারই প্রমাণ।

এর আগে ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটিতে ‘ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের মধ্যেও গণতন্ত্রের শিখা জ্বালিয়ে রাখার’ ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করার দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ওই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।