ছবি প্রদর্শনী নিয়ে বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, ক্যাম্পাস উত্তপ্ত
ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর থেকে পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ক্যাম্পাস সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ওই প্রদর্শনীতে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ (জুডিশিয়াল কিলিং) শিরোনামে একটি ব্যানারে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা থাকা কয়েকজন ব্যক্তির ছবি রাখা হয়।
সন্ধ্যায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে গিয়ে ওই ছবিগুলোর ব্যাপারে তীব্র আপত্তি তোলেন। ছাত্রদল নেতাদের দাবি, মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ব্যক্তিদের ছবি এভাবে প্রদর্শন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা অবিলম্বে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তবে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ঘটনার পর উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় ইটপাটকেল ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমান এবং ছাত্রশিবিরের কর্মী মেহেদী হাসান রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।