বিজ্ঞাপন
শিক্ষা

‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে শিবির, অভিযোগ ছাত্রদলের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

Published :
‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে শিবির, অভিযোগ ছাত্রদলের

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির অভিযোগ, ছাত্র অধিকার আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ‘শিবির নিয়ন্ত্রিত’ ডাকসুর বর্তমান পরিষদ এখন ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি অনুরাগ ও ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে।

আজ সোমবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক যৌথ বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেন। অবিলম্বে ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিবৃতিতে ছাত্রদলের শীর্ষ এই দুই নেতা বলেন, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এই প্রতিবাদই পরবর্তী সময়ে রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্রসংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, সেই ডাকসুর সংগ্রহশালায় বিতর্কিত এই নেতার ছবি প্রদর্শন ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।

ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, অধিকার আদায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে ডাকসু পুরোপুরি ব্যর্থ। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত স্বার্থের তোয়াক্কা না করে তারা পরিষদটিকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।

এ প্রসঙ্গে মধুর ক্যানটিনের সাম্প্রতিক বিতর্কের বিষয়টিও তুলে ধরে ছাত্রদল। বিবৃতিতে বলা হয়, মধুর ক্যানটিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মঞ্জিল’ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন—এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণ-আকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়েছে। তারা ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি প্রচ্ছন্ন অনুরাগ দেখাচ্ছে।

ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানিয়ে ছাত্রদলের নেতারা বলেন, ঐতিহাসিক মধুর ক্যানটিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার সব অপপ্রয়াস রুখে দেওয়া হবে।

বিবৃতির শেষে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ১৯৪৮ সালে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার জিন্নাহর উক্তির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ যেভাবে গর্জে উঠেছিল, ঠিক তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল চেতনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।