ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে গত ১ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৮০০ কোটি (৩৮ বিলিয়ন) ডলারের বেশি। যুদ্ধের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে এই ব্যয় প্রতি মাসে আরও ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার বা তার বেশি বাড়তে পারে। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট কার্যালয়ের (সিবিও) প্রকাশিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাবের সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া তথ্যের বেশ মিল পাওয়া গেছে। সম্প্রতি সিনেটে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছিলেন।
খরচের বড় অংশই অস্ত্রে, বাড়বে মূল্যস্ফীতি
বাজেট কার্যালয় জানিয়েছে, খরচের বড় অংশই গেছে লড়াইয়ে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় মজুত করার পেছনে। তবে নিহত বা আহত মার্কিন সেনাদের সংশ্লিষ্ট ব্যয় এবং সাবেক সেনাসদস্যদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ভাতা এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি হতে পারে। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়াই এর প্রধান কারণ।
রিপাবলিকানদের তোপ দাগলেন বয়েল
যুদ্ধের এই বিপুল ব্যয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা ব্রেন্ডন বয়েল। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের মানবিক ক্ষতির পাশাপাশি নির্দলীয় বাজেট কার্যালয়ের এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করেছে যে, এই যুদ্ধ এরই মধ্যে মার্কিন করদাতাদের কয়েক হাজার কোটি ডলার গিলে খেয়েছে এবং এই ব্যয় সামনে আরও বাড়বে।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের নিশানা করে বয়েল আরও বলেন, ‘তাঁরা বছরের পর বছর ধরে বলে আসছেন, দেশের মানুষের সহায়তায় আমাদের সামর্থ্য নেই। কিন্তু বেপরোয়া এই যুদ্ধে হাজার হাজার কোটি ডলার ওড়াতে তাঁদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এর চূড়ান্ত মূল্য চোকাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ।’
অস্ত্র মজুতে ‘কৌশলগত ঘাটতি’
আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যে যখন চরম উদ্বেগ, ঠিক তখনই খরচের এই বিশাল হিসাব সামনে এল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এরই মধ্যে সপ্তম মাসে গড়িয়েছে, অথচ সংঘাত অবসানের কোনো লক্ষণ নেই। বর্তমান কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।
গত জুনে হোয়াইট হাউস যুদ্ধ ও আনুষঙ্গিক কাজের জন্য কংগ্রেসে অতিরিক্ত ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের আবেদন করেছিল, যা এখনো অনুমোদন পায়নি। বাজেট কার্যালয় বলছে, এই অর্থের মধ্যে ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সরাসরি যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এটি প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব করা ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
বাজেট কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিবেদন তৈরির জন্য তথ্য চাওয়া হলেও প্রতিরক্ষা দপ্তর সাড়া দেয়নি, যা প্রচলিত রীতির পরিপন্থী। তাই সরকারি তথ্যভান্ডার ও প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই এই হিসাব কষতে হয়েছে। ফলে এই হিসাবের ক্ষেত্রে ‘উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা’ থেকে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের গত সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, টানা এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের মজুতে এরই মধ্যে ‘কৌশলগত ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে।