বিজ্ঞাপন
রাজনীতি

‘যুদ্ধে নেমে দেখি তুমিই বিপক্ষ দলের সেনাপতি’ এমপি নজরুলের স্ত্রীর লেখা চিরকুট

বাংলা সংযোগ ডেস্ক

Published :
‘যুদ্ধে নেমে দেখি তুমিই বিপক্ষ দলের সেনাপতি’ এমপি নজরুলের স্ত্রীর লেখা চিরকুট

জাতীয় সংসদের সিলযুক্ত প্যাড ও সাধারণ সাদা কাগজে লেখা কয়েকটি চিরকুট। পাতাগুলো জুড়ে ছড়িয়ে আছে এক জটিল সম্পর্কের টানাপড়েন, বিশ্বাসভঙ্গ, আক্ষেপ আর চরম অভিমানের কথা। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর বিছানা থেকে এসব চিরকুট পেয়েছে পুলিশ।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ওই ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল গভীর রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও নজরুলের শ্যালক ওবায়দুল রহমানকে আসামি করা হয়েছে। জানা গেছে, এমপি নজরুল তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটেই থাকতেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উদ্ধার হওয়া চিরকুটগুলোতে চরম হতাশা ও ক্ষোভের পাশাপাশি মানসিক যন্ত্রণার চিত্র ফুটে উঠেছে। কোনো কোনো চিরকুট লেখা হয়েছে জাতীয় সংসদের প্যাডে, কোনোটি সাদা কাগজে।

‘তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি’
জাতীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি চিরকুটে চরম আক্ষেপ নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সঙ্গে, কিন্তু জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’

আরেকটি সাধারণ সাদা পাতায় সম্পর্কের সামাজিক বৈধতা ও বঞ্চনা নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী—কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা... অন্য কারও স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। কারণ, ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়—ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

‘আমিই ছিলাম গেমসের ঘুঁটি’
আস্থাভঙ্গের অভিযোগ তুলে অন্য একটি পাতায় লেখা হয়েছে, ‘সে বলেছিল—আজ থেকে আমরা বন্ধু, চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো—আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক ঘুঁটি।’

সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি পাতায় সতর্কবার্তা দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘আমি হেরেছি, তুমি জিতেছো। কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। দেখে নাও, এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’

লাল কালিতে লেখা একটি সংক্ষিপ্ত নোটে আত্মমর্যাদার কথা উল্লেখ করে লেখা হয়েছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো, ততটা সস্তা আমি নই!’

ধর্মীয় আমলের তালিকা
আবেগ, ক্ষোভ ও অভিমানের এসব লেখার পাশাপাশি বিছানা থেকে ধর্মীয় আমলসংক্রান্ত একটি চিরকুটও পাওয়া গেছে। সেখানে ঘুমানোর আগে পাঠ করার জন্য কালেমা, বিভিন্ন দোয়া, আয়াতুল কুরসি এবং নির্দিষ্ট সংখ্যায় দরুদ শরিফ ও ইস্তিগফারসহ ছয়টি আমলের উল্লেখ রয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানা–পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব চিরকুট সত্যিই মরিয়ম খাতুনের নিজের হাতে লেখা কি না, তা নিশ্চিত হতে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা হবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বা তাঁর পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।