বিজ্ঞাপন
রাজনীতি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এখন ‘তারেক বিশ্ববিদ্যালয়’ : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

বাংলা সংযোগ ডেস্ক

Published :
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এখন ‘তারেক বিশ্ববিদ্যালয়’ : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি : বাংলা সংযোগ

দেশে গত ১৫ বছরে গড়ে ওঠা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এখন চুপসে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এখন ‘তারেকের ডাক’-এ পরিণত হয়েছে। আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে গেছে ‘তারেক বিশ্ববিদ্যালয়’।

বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর )  রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন। ‘এসআরবি, গুম ও সাইবার আইন: মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্মিলিত আয়োজন’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে দলটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সমালোচনা করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের একটি কর্মসূচির পর অফিশিয়াল পেজ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হচ্ছে—প্রোগ্রামটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটেছে।

‘চুক্তি ভেঙেছে বিএনপি’
গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছিল। তখন বিএনপি সংকট সমাধানের বদলে দ্রুত নির্বাচনের দাবি তোলে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির কথা বলে সে সময় মাঠে ‘ইশরাক বাহিনী’ নামানো হয়েছিল উল্লেখ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘তিনি (ইশরাক) বলেছিলেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তাঁকে মেয়র বানাতে। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই এমন বাহিনী নামিয়েছিল বিএনপি। তখন প্রতিদিনই বন্দরে মশাল মিছিল দেখতে পেতাম।’

‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব দল মিলে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করলেও বিএনপি শুরুতেই তা ভেঙে দিয়েছে। তারা সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কাজ শুরু করেছে।

নজরদারির আশঙ্কা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা
নাগরিকদের আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাবের সুযোগ নিয়ে বর্তমান সরকার সাইবার সুরক্ষা আইন ও গুমের মতো ভয়ংকর অস্ত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা আমাদের সবারই দরকার, সেটা অনলাইন হোক কিংবা অফলাইন। কিন্তু বিগত পতিত সরকার অনলাইনে নজরদারির জন্য বিদেশি শক্তির কাছ থেকে সরঞ্জাম কিনেছিল। আমরা শুনেছি, বর্তমান সরকারও ভেতরে–ভেতরে ভারত ও ইসরায়েলের মতো শক্তির সঙ্গে একই ধরনের চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাজের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিদিনের রুটিন হলো বিভিন্ন ক্যানটিনে গিয়ে ডাল পরীক্ষা করা। তিনি মুখে দিয়ে সেই চামচ আবার ডালেই রেখে দিচ্ছেন।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আইন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মুসা, রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, আব্দুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম সদস্যসচিব ফরিদুল হক, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।